ভারত কোকিং কোল লিমিটেড (বিসিসিএল)-এর আইপিও শীঘ্রই বাজারে আসতে চলেছে। তারই মধ্যে কোল ইন্ডিয়া লিমিটেড (সিআইএল)-এর বোর্ড আরও দুইটি সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সাবসিডিয়ারি—মহানদী কোলফিল্ডস লিমিটেড (এমসিএল) ও সাউথ-ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (এসইসিএল)-এর আইপিওর পথ পরিষ্কার করল।
মঙ্গলবার সার্কুলার রেজোলিউশনের মাধ্যমে সিআইএল বোর্ড এসইসিএল-এর তালিকাভুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কয়লা মন্ত্রকের মাধ্যমে ডিপার্টমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড পাবলিক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট (ডিআইপিএএম)-এর কাছে পাঠানো হবে বলে স্টক এক্সচেঞ্জকে জানিয়েছে কোল ইন্ডিয়া। একই সঙ্গে এমসিএল-এর তালিকাভুক্তির বিষয়েও এক্সচেঞ্জকে অবহিত করা হয়েছে।
কয়লা উৎপাদনের নিরিখে এমসিএল কোল ইন্ডিয়ার অন্যতম প্রধান সাবসিডিয়ারি। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে সংস্থাটি ২২৫ মিলিয়ন টন কয়লা উৎপাদন করেছে এবং রেকর্ড ২১০ মিলিয়ন টন কয়লা সরবরাহ করেছে। ওই বছরে এমসিএলের আয় ছিল ৩৬,৬০৬ কোটি টাকা এবং কর-পরবর্তী লাভ (পিএটি) ১০,৮২৩ কোটি টাকা। সংস্থার নিট সম্পদের পরিমাণ ১৮,২৭৮ কোটি টাকা। তবে এমসিএল মূলত ওপেন-কাস্ট খনির উপর নির্ভরশীল, ভূগর্ভস্থ খনি থেকে উৎপাদনের অবদান খুবই কম।
অন্যদিকে, এসইসিএল ১৬৭ মিলিয়ন টন কয়লা উৎপাদন করে, যার মধ্যে ভূগর্ভস্থ খনি থেকে আসে ১১ মিলিয়ন টনের বেশি। ২০২৪-২৫ সালে সংস্থার মোট আয় ছিল ৩৫,৮৭১ কোটি টাকা এবং পিএটি ৪,৬৪৮ কোটি টাকা। এসইসিএলের নিট সম্পদ ১৬,৮৭০ কোটি টাকা।
এদিকে মঙ্গলবার শেয়ারবাজারে কোল ইন্ডিয়ার শেয়ার ৩.৫ শতাংশ বেড়ে ৪০০ টাকায় পৌঁছয়।
আগস্টে অনুষ্ঠিত কোল ইন্ডিয়ার এজিএম-এ মহারত্ন সংস্থার চেয়ারম্যান জানিয়েছিলেন, বিসিসিএল ও সেন্ট্রাল মাইন প্ল্যানিং অ্যান্ড ডিজাইন ইনস্টিটিউট (সিএমপিডিআই)-এর আইপিওর জন্য রোডশো শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেবির কাছে মে ও জুন মাসে যথাক্রমে সিএমপিডিআই ও বিসিসিএল তাদের খসড়া নথি জমা দিয়েছে। কোল ইন্ডিয়া এই দুই সাবসিডিয়ারিতে যথাক্রমে সর্বোচ্চ ৭.১ কোটি ও ৪৬.৫ কোটি ইক্যুইটি শেয়ার বিক্রি করার পরিকল্পনা করেছে। এই আইপিওগুলি হবে ‘অফার ফর সেল’, অর্থাৎ নতুন কোনও শেয়ার ইস্যু করা হবে না। বাজার সূত্রে জানা যাচ্ছে, সবার আগে বিসিসিএল-এর আইপিওই বাজারে আসতে পারে।










