Home / খবর / শিল্প-বাণিজ্য / ইসিএলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন, গাফিলতি ও অবহেলার অভিযোগ, বারাবনির কয়লাখনিতে দুর্ঘটনা, ধসে আহত এক মহিলা

ইসিএলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন, গাফিলতি ও অবহেলার অভিযোগ, বারাবনির কয়লাখনিতে দুর্ঘটনা, ধসে আহত এক মহিলা

বারাবনি ও আসানসোল : আসানসোলের বারাবনিতে সালানপুর এরিয়ার বেগুনিয়া কয়লাখনিতে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় আরও একবার ইসিএলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম গাফিলতিকে প্রকাশ্যে এনে দিল।

বারাবনির কাপিষ্টা গ্রামের বাসিন্দা মালা বাউরি (৫১) কয়লাখনি ধসে গুরুতর আহত হয়েছেন। ভোর সকাল ৬টা ৩০ থেকে ৭টার মধ্যে ওই কয়লাখনি এলাকার মধ্যে হঠাৎ একটি বিশাল কয়লার চাঁই তার উপর ধসে পড়ে।

মালা বাউরি জানান, তিনি সকালে ওই কয়লাখনিতে কয়লা আনতে গিয়েছিলেন। তখনই ঘটে এই ঘটনা। এই দুর্ঘটনায় মালা বাউরির ডান হাত সম্পূর্ণভাবে ভেঙে গিয়ে কয়েক টুকরো হয়ে গেছে। পাশাপাশি তার কোমরেও গুরুতর আঘাত লেগেছে। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় প্রথমে তাঁকে কেলেজোড়া সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে রেফার করা হয়।

কিন্তু সেখানেও শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হওয়ায় তাঁকে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। যেখানে বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
এই ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেল বিজেপির আসানসোল সাংগঠনিক জেলার কমিটির সদস্য অভিজিৎ রায়। তিনি এই ঘটনার জন্য ইসিএলকে দায়ী করেছেন।
বিজেপি নেতা বলেন, কয়লাখনি এলাকায় ইসিএলের নিরাপত্তা দেওয়ার কথা। সাধারণ মানুষ সেখানে কেন যাবে? এই মহিলার যা বয়স, তাতে তো তিনি সেখানে কয়লা চুরি করতে গেছেন, এটা কেউ বলবে না। তিনি তো বলেন, সে কয়লা আনতে গিয়েছিলেন। বিজেপি নেতা আরও বলেন, গত একমাসে ইসিএলের সালানপুর এরিয়ায় তিনটি এই ধরনের ঘটনা ঘটল।

এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যে এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি ইসিএলের এলাকা। তা সত্ত্বেও সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তারক্ষী, ঘেরাও ব্যবস্থা, সতর্কতামূলক বোর্ড বা কোনও ধরনের নজরদারি ছিল না। অভিযোগ, নিরাপত্তা ব্যবস্থার এই প্রকাশ্য ঢিলেমির কারণেই খনি এলাকায় সাধারণ মানুষের অবাধ যাতায়াত চলে। যার ফলেই এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ইসিএলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যদি দায়িত্বশীল ও সক্রিয় হতো, তাহলে এই প্রাণঘাতী ঘটনা সহজেই এড়ানো যেত। প্রশ্ন উঠছে, কিভাবে নিষিদ্ধ খনি এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ সম্ভব হল? সেই সময় ইসিএলের নিরাপত্তাকর্মীরা কোথায় ছিলেন।

উল্লেখ্য , গত এক মাসে সালানপুর এরিয়ার একাধিক কয়লাখনিতে পরপর এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবারই নিরাপত্তার গাফিলতি ও অবহেলার অভিযোগ উঠলেও এখনো পর্যন্ত কোনও কঠোর পদক্ষেপ ও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, অবৈধ কয়লা কারবারে যুক্ত কয়লা মাফিয়া ও ইসিএলের একাংশ আধিকারিকদের যোগসাজশের কারণেই ইচ্ছাকৃতভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল রাখা হচ্ছে। আর এই যোগসাজশ বা আঁতাতের খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ ও দরিদ্র গ্রামবাসীদেরকে, নিজেদের জীবন বিপন্ন করে। চরণপুর হোক, ডাবর কোলিয়ারি হোক বা বেগুনিয়া কয়লাখনি, সর্বত্র একই ছবি।
একের পর এক ঘটে চলা এই ঘটনাগুলি ইসিএলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং মানবিক দায়িত্ববোধ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই ঘটনার পর কি আদৌও দায়ী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে, নাকি আগের ঘটনার মতো এটিও ধামাচাপা পড়ে যাবে?

যদিও, বারাবনির এই ঘটনা ও তার পরিপ্রেক্ষিতে এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ ও দাবি নিয়ে ইসিএলের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *