আসানসোল শিল্পাঞ্চলে ভয়াবহ ভাবে ছড়িয়ে পড়ছে সিলিকোসিস রোগ। বৃহস্পতিবার আরও ৬ জন শ্রমিকের দেহে এই মারণ রোগের হদিশ মিলেছে। আসানসোল জেলা হাসপাতালে বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ডে পরীক্ষা করার পর চিকিৎসকেরা জানান, ওই ৬ জনের সিলিকোসিস ধরা পড়েছে।
এদিন মোট ১৪ জন শ্রমিককে সিলিকোসিস পরীক্ষার জন্য জেলা হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের সঙ্গে পরিবারের সদস্য ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিজেপি নেতা অভিজিৎ রায়। পরীক্ষার পর জানা যায়, সালানপুরের হারাধন বাউরি ও সর্বন বাউরি, জামুড়িয়ার সুনীল দাস ও কিষাণ কোড়া, বারাবনির উজ্জ্বল দাস ও সরজিৎ মণ্ডল— এই ছয়জনের দেহে সিলিকোসিস ধরা পড়েছে।
গত দেড় বছরে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে শিল্পাঞ্চলে ইতিমধ্যেই চারজন শ্রমিক মারা গিয়েছেন। আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।
অভিজিৎ রায়ের অভিযোগ, “আসানসোলের শিল্পাঞ্চল এখন মৃত্যুর কারখানায় পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের গাফিলতি ও সরকারি দপ্তরগুলির উদাসীনতার ফলেই প্রতিদিন শ্রমিকরা মারা যাচ্ছেন।” তাঁর দাবি, শ্রম দপ্তর, পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ড এবং স্থানীয় প্রশাসনের অবহেলা এই মৃত্যুর প্রধান কারণ।
আক্রান্তদের পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দায়ীদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই জনস্বার্থ মামলা (পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশন) দায়ের করা হবে।
উল্লেখ্য, সিলিকোসিস একটি দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগ, যা স্ফটিক সিলিকা ধূলিকণা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে হয়। এতে ফুসফুসে দাগ সৃষ্টি হয়, যা অক্সিজেন গ্রহণের ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং শ্বাসকষ্টের কারণ হয়। এই রোগের কোনো স্থায়ী প্রতিকার নেই— প্রতিরোধই একমাত্র উপায়।










