উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, দক্ষিণ ২৪ পরগনা : অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তাদের সামনে রেখে এবার রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনে পথে নামল বিজেপি। বিরোধীদের বিভিন্ন বক্তব্য ও অভিযোগের জবাব দিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার গড়িয়া থেকে কামালগাজি পর্যন্ত আয়োজন করা হল বর্ণাঢ্য মিছিল। গড়িয়া শীতলা মন্দির থেকে শুরু হয়ে মিছিল শেষ হয় কামালগাজি মোড়ে।বুধবারের এই মিছিলে মহিলাদের উপস্থিতি ছিল বিশেষ ভাবে চোখে পড়ার মতো। অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তাদের অনেকের হাতেই ছিল প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড। কোথাও প্রকল্পের সুবিধার কথা তুলে ধরা হয়, আবার কোথাও প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর ছবি-সহ পোস্টার দেখা যায়। দলীয় পতাকা ও পোস্টার হাতে মিছিলে অংশ নেন বহু কর্মী সমর্থক এবং প্রকল্পের উপভোক্তারা।বিজেপির দাবি, অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধাভোগীদের নিয়ে এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হল সাধারণ মানুষের কাছে প্রকল্পের বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং বিরোধীদের বিভিন্ন অভিযোগের রাজনৈতিক জবাব দেওয়া।দলের কর্মী সমর্থকদের পাশাপাশি উপভোক্তাদের অংশগ্রহণে মিছিল বড় আকার নেয়।
মিছিলের সামনে ও মাঝের সারিতে ছিলেন বহু মহিলা। তাঁদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতার বার্তা তুলে ধরা হয়। মিছিল এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে কর্মী সমর্থকদের ভিড়ও বাড়তে দেখা যায়। রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে মিছিল দেখতে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, জনকল্যাণ মূলক প্রকল্পকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের সমর্থন নিজেদের পক্ষে তুলে ধরার চেষ্টা করছে বিজেপি। পাল্টা বিরোধীদের বক্তব্য, সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের নিয়ে এই ধরনের কর্মসূচি মূলত রাজনৈতিক প্রচারেরই অংশ। ফলে অন্নপূর্ণা যোজনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা আগামী দিনে আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।এদিনের কর্মসূচিতে শুধু দলীয় কর্মী সমর্থকরাই নয়, প্রকল্পের উপভোক্তাদেরও প্রকাশ্যে সামনে আনা হয়। বিশেষ করে মহিলাদের বড় উপস্থিতি মিছিলের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হয়ে ওঠে।এদিন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক প্রাক্তন আই পি এস দেবাশীষ ধরের নেতৃত্বে গড়িয়ার শীতলা মন্দির থেকে কামালগাজি মোড় পর্যন্ত মিছিল ঘিরে এলাকায় তৈরি হয় উৎসাহ-উদ্দীপনা। অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তাদের সামনে রেখে বিজেপি এদিন কার্যত বার্তা দিল—সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া মানুষের পাশে তারা রয়েছে এবং বিরোধীদের রাজনৈতিক বক্তব্যের জবাব মাঠে নেমেই দিতে প্রস্তুত।তবে প্রকল্পের বাস্তব সুবিধা, উপভোক্তাদের অভিজ্ঞতা এবং সরকারি পরিষেবার কার্যকারিতা নিয়ে আগামী দিনে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও কতটা জোরদার হয়, এখন সেটাই দেখার।










