রূপনারায়ণপুর: রাতের অন্ধকারে জেসিবি নামিয়ে তছনছ করে দেওয়া হলো ৫০ বছরের পুরনো খেলার মাঠ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল সালানপুর থানার রুপনারায়ণপুর ফাঁড়ির অন্তর্গত ধাঙ্গুডি মৌজার চিতালডাঙ্গা এলাকায়। জমিটার দখল নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধাঙ্গুডি মৌজার ১৫৫৮ নম্বর দাগে অবস্থিত চিতালডাঙ্গার এই ফুটবল মাঠটি গত অর্ধ শতাব্দী ধরে এলাকার শিশু ও তরুণদের খেলাধুলার মূল প্রাণকেন্দ্র। মাঠের ভেতরেই তৈরি করা হয়েছিল ছোটদের ক্রিকেট পিচ। প্রতিদিন গড়ে শতাধিক শিশু-কিশোর সেখানে ফুটবল ও ক্রিকেট অনুশীলন করে।
অভিযোগ, বুধবার গভীর রাতে কিছু দুষ্কৃতী জেসিবি (JCB) নিয়ে এসে মাঠের বিভিন্ন অংশ খুঁড়ে দেয় এবং তছনছ করে ফেলে। বৃহস্পতিবার সকালে খেলতে এসে বিষয়টি নজর কাড়ে শিশুদের। মুহূর্তের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় গ্রামবাসী ও ক্রীড়াপ্রেমীরা।গ্রামবাসীদের সরাসরি অভিযোগের তীর এলাকার একটি সুসংগঠিত “জমি মাফিয়া” চক্রের দিকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি,
কম দামে খালি জমি কিনে, তা প্লটিং করে চড়া দামে বিক্রি করাই এই মাফিয়াদের মূল কাজ। দীর্ঘ দিন ধরেই আমাদের এই ৫০ বছরের পুরনো মাঠটি হাতিয়ে নেওয়ার চক্রান্ত চলছিল।
তারা আরও জানান, বছরের পর বছর ধরে তারা জেনে এসেছেন এই জমিটি সরকারি খাস জমি। তাই খেলার মাঠটি রক্ষায় তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই করবেন। অন্যদিকে, জমি দখলের অভিযোগে অভিযুক্ত পক্ষের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের বক্তব্য, এই জমিটি কোনও সরকারি খাস জমি নয়, বরং তাদের পূর্বপুরুষের ‘রায়তি সম্পত্তি’। জমি সংক্রান্ত সমস্ত বৈধ কাগজপত্র ও দলিল তাদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হলে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রূপনারায়ণপুর ফাঁড়ির পুলিশ। পুলিশ কর্তারা উত্তেজিত গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দিয়ে জানানো হয়, সরকারি রেকর্ড ও নথি খতিয়ে দেখে জমিটি পুনরায় মাপজোক করা হবে। তদন্ত ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত ওই জমিতে সব ধরনের কাজ বা নির্মাণ বন্ধ থাকবে।প্রশাসনের প্রাথমিক হস্তক্ষেপে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি শান্ত হলেও থমথমে ভাব বজায় রয়েছে ধাঙ্গুডি মৌজায়। প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তে ৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠটি রক্ষা পায়, নাকি জমি মাফিয়াদের গ্রাসেই চলে যায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে চিতালডাঙ্গার সাধারণ মানুষ।










