অমল মাজি, দুর্গাপুর
রাজ্যের পূর্ণাঙ্গ বাজেটে আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের জন্য বড় সুখবর। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, আসানসোল-দুর্গাপুরের মধ্যে মেট্রো পরিষেবা চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে সমীক্ষা (সার্ভে) শুরু করা হবে। এই ঘোষণার পরই শিল্পাঞ্চল জুড়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই আসানসোল ও দুর্গাপুরের মধ্যে দ্রুত, আধুনিক এবং নির্ভরযোগ্য গণপরিবহণ ব্যবস্থার দাবি উঠছিল। দুই শহর মিলিয়ে প্রায় ১০০ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এই শিল্পাঞ্চলে প্রতিদিন হাজার হাজার কর্মী, ছাত্রছাত্রী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষ যাতায়াত করেন। মেট্রো পরিষেবা চালু হলে যাতায়াতের সময় যেমন কমবে, তেমনি বাড়বে শিল্প ও বাণিজ্যের গতি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আসানসোল-দুর্গাপুর মেট্রো প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এটি শুধু একটি পরিবহণ প্রকল্প হবে না, বরং সমগ্র পশ্চিম বর্ধমান জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন অধ্যায় রচনা করবে। নতুন শিল্প বিনিয়োগ, আবাসন প্রকল্প, বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে এই অঞ্চলের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে আসানসোল দুর্গাপর ডেভলপমেন্ট অথরিটি।
রাজ্য সরকারের লক্ষ্য, কলকাতার বাইরে দ্বিতীয় বৃহত্তম নগর ও শিল্প করিডোর হিসেবে আসানসোল-দুর্গাপুরকে গড়ে তোলা। ইতিমধ্যেই সড়ক, রেল, শিল্প পরিকাঠামো এবং নগর উন্নয়নে একাধিক প্রকল্পের কথা বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজ্যের শিল্প ও লজিস্টিক হাব তৈরির পরিকল্পনায়ও এই অঞ্চলকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে, অন্ডাল বিমানবন্দর, রেল যোগাযোগ এবং শিল্পাঞ্চলের শক্তিশালী ভিত্তির সঙ্গে যদি মেট্রো পরিষেবা যুক্ত হয়, তাহলে আসানসোল-দুর্গাপুর অঞ্চল আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পূর্ব ভারতের অন্যতম আধুনিক নগর করিডোরে পরিণত হতে পারে।
এখন নজর রাজ্য সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। সার্ভে শুরু হওয়ার পর প্রকল্পের সম্ভাব্য রুট, ব্যয় এবং সময়সীমা নিয়ে বিস্তারিত চিত্র সামনে আসবে। তবে বাজেটের এই ঘোষণা স্পষ্ট করে দিয়েছে, আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলকে ঘিরে বড় উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করতে চাইছে রাজ্য বিজেপি সরকার। শিল্প, কর্মসংস্থান ও আধুনিক নগরায়নের নতুন স্বপ্ন দেখছে পশ্চিম বর্ধমান।










