বার্নপুর : শনিবার সকালটা বার্নপুরের শুরু হল বুলডোজারের গর্জনে। সেল আইএসপি (ইস্কো) কর্তৃপক্ষের কড়া উচ্ছেদ অভিযানে ভেঙে ফেলা হল আসানসোল পুরনিগমের ৮৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অশোক রুদ্রর বার্নপুর স্টেশন সংলগ্ন কার্যালয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। একইসঙ্গে সেলের জমিতে গড়ে ওঠা একাধিক তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস ও ক্লাব ঘরেও চলে উচ্ছেদ অভিযান, যা ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর আতঙ্ক।
সেল কর্তৃপক্ষের দাবি, সংশ্লিষ্ট কার্যালয় ও ক্লাবগুলি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে সেলের জমি দখল করে নির্মাণ করা হয়েছিল। একাধিকবার নোটিশ ও সতর্কবার্তা দেওয়ার পরও দখলদাররা জায়গা খালি না করায় শেষ পর্যন্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
সেলের এক আধিকারিক জানান, “এটি হঠাৎ করে নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়। আগে থেকেই নোটিশ দেওয়া হয়েছিল এবং জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়। তারপরও নির্দেশ না মানায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতের উন্নয়নমূলক কাজ ও জনস্বার্থে ওই জমি খালি করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছিল। সেখানে উন্নয়নমূলক পরিকাঠামো তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
এই অভিযানে পুলিশের সক্রিয় ভূমিকাও ছিল উল্লেখযোগ্য।
সেল কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রশাসন ও পুলিশের পূর্ণ সহযোগিতার ফলেই নির্বিঘ্নে অভিযান সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। এক আধিকারিকের কথায়, “আগেও উচ্ছেদ অভিযান হয়েছে, তবে এবার সমন্বয় অনেক বেশি কার্যকর।”
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সম্পূর্ণ আইন মেনেই এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও বেআইনি দখলের বিরুদ্ধে একইভাবে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
যদিও এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে বিজেপির দাবি, আগের সরকারের সময় প্রশাসনিক সহযোগিতার অভাবে এই ধরনের অভিযান সম্ভব হয়নি। এখন বেআইনি দখলদারদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং শিল্পাঞ্চলের উন্নয়নের স্বার্থে জমি দখলমুক্ত করা হচ্ছে।
বার্নপুরে এই উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে এখন প্রশ্ন উঠছে, শিল্পাঞ্চলে কি এবার আরও বড়সড় ‘দখলমুক্তি অভিযান’ শুরু হতে চলেছে?









