টানা কয়েক দিন ধরে হুমকি, সতর্কবার্তা এবং সংঘাত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা। এ বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীদের হত্যা বন্ধ হয়েছে। তাঁর এই মন্তব্যে আগের তুলনায় কিছুটা সংযত সুর লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর আগে ট্রাম্প সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন।
এই মন্তব্য আসে ২৬ বছর বয়সি ইরানি বিক্ষোভকারী এরফান সোলতানির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষিতে। গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, তাঁকে জানানো হয়েছে যে আন্দোলন সংক্রান্ত হত্যাকাণ্ড এবং পরিকল্পিত মৃত্যুদণ্ড—দুটোই আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, “কিছু তথ্য আমার কাছে এসেছে, তাতে বলা হয়েছে যে হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডও বন্ধ হয়েছে এবং আপাতত কাউকে ফাঁসি দেওয়া হবে না—যা নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে অনেক আলোচনা হচ্ছিল।”
বুধবার রাতে নরওয়ে-ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হেনগাও জানায়, এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
এই তথ্য কে দিয়েছে—সে বিষয়ে ট্রাম্প নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি। শুধু বলেন, তথ্য এসেছে “ওপারের দিকের খুব গুরুত্বপূর্ণ সূত্র” থেকে।
তিনি জানান, এখন পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ট্রাম্পের কথায়, “আমরা দেখব পরিস্থিতি কোন দিকে যায়।” তিনি আরও বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে হোয়াইট হাউস একটি “খুব ভালো বিবৃতি” পেয়েছে।
তবে সামরিক পদক্ষেপ পুরোপুরি বাতিল করা হচ্ছে না। এই পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র কাতারের একটি বিমানঘাঁটি থেকে কিছু কর্মী সরিয়ে নিচ্ছে, কারণ মার্কিন-ইরান সংঘাত বড় আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা বাড়ছে।
এদিকে, ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন, বিক্ষোভের ঘটনায় ফাঁসি দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা তেহরানের নেই। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ফাঁসি দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই। এই ধরনের শাস্তি একেবারেই প্রশ্নের বাইরে।”
তবে বিদেশমন্ত্রীর এই বক্তব্যের বিপরীতে ইরানের বিচারব্যবস্থা ভিন্ন ইঙ্গিত দিয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের রিপোর্ট অনুযায়ী, শীর্ষ বিচার আধিকারিকরা আন্দোলনের সময় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার শেষ করার কথা প্রকাশ্যে বলেছেন।
ইরানের প্রধান বিচারপতি গোলামহোসেন মোহসেনি-এজেই বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে। তাঁর কথায়, “যদি কিছু করতে হয়, এখনই করতে হবে। দুই-তিন মাস পরে করলে তার প্রভাব আর একই রকম থাকবে না।”
মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, এই আন্দোলনের সময় এখন পর্যন্ত ১৮ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানে সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের শাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক দমননীতি এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকেই এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে।
হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির মতে, দমন অভিযানে এখন পর্যন্ত ২,৬০০-র বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। অন্য কিছু হিসাব অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা ৩,০০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিকে ইরানের অন্যতম রক্তক্ষয়ী অস্থিরতা বলে মনে করা হচ্ছে।
ট্রাম্প এবং মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা বারবার আন্দোলনকারীদের সমর্থনে কথা বলেছেন। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, আন্দোলনকারীদের হত্যা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব বৈঠক বাতিল করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, হিংসা চলতে থাকলে সামরিক বিকল্প বিবেচনায় রাখা হয়েছে। তবে প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভিট বলেন, ট্রাম্পের প্রথম পছন্দ এখনও কূটনৈতিক পথই।










