হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার নিল। ইরানের কূটনৈতিক চালের জেরে চাপে পড়ে পালটা হুঁশিয়ারি দিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন। এর জবাবে তেহরানও কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আমেরিকাকে ‘জলদস্যু’ বলে আক্রমণ করেছে।
পাকিস্তানে আয়োজিত আমেরিকা-ইরান শান্তি বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর তেহরানকে আর্থিকভাবে চাপে ফেলতে নতুন কৌশল নিয়েছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানকে অবৈধভাবে শুল্ক দেওয়া যে কোনও জাহাজকে আটক করবে মার্কিন সেনা। পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে দেন, ইরান যদি মার্কিন স্বার্থ বা জাহাজে হামলা চালায়, তবে তার কড়া জবাব দেওয়া হবে।
মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ড ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে, ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকা অবরোধ করা হবে। ইরানের স্থানীয় সময় অনুযায়ী, সোমবার বিকেল ৫টা থেকে এই পদক্ষেপ কার্যকর করার কথা জানানো হয়েছে।
এর পরেই পালটা হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। মার্কিন পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ এবং ‘জলদস্যুতার শামিল’ বলে কটাক্ষ করে ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতেও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই থাকবে। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ইরানের জলসীমা দিয়ে শত্রুপক্ষের কোনও জাহাজকে যেতে দেওয়া হবে না।
ইরানের তরফে আরও জানানো হয়েছে, তাদের বন্দরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে গোটা অঞ্চলের কোনও বন্দরই নিরাপদ থাকবে না। পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগর জুড়ে বড়সড় অস্থিরতার ইঙ্গিতও দিয়েছে তারা।
এদিকে আমেরিকার এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে রাশিয়া। মস্কোর দাবি, হরমুজ প্রণালী অবরোধ করা হলে বিশ্ববাজারে ভয়াবহ প্রভাব পড়বে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে একাধিক অস্পষ্টতা রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।










