Home / খবর / বিশ্ব / পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা চরমে, খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে বিশ্ব জুড়ে উদ্বেগ

পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা চরমে, খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে বিশ্ব জুড়ে উদ্বেগ

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত ক্রমেই জটিল আকার নিচ্ছে। আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ এবং সেনাপ্রধান আব্দুল রহিম মৌসাভির মৃত্যুর খবরও সামনে এসেছে। তবে এই ঘটনার পরেও পিছু হটার কোনও ইঙ্গিত দেয়নি তেহরান; বরং কড়া পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান সরকার।

অশীতিপর খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। একাংশের মতে, নির্বাসিত ইরানি যুবরাজ রেজা পাহলভি দেশে ফিরে রাজনৈতিক নেতৃত্ব গ্রহণ করতে পারেন। অন্যদিকে, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র খামেনেইকে ‘শহিদ’ হিসেবে তুলে ধরে নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করবে বলেও মত বিশ্লেষকদের।

খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে বিক্ষোভ শুরু হয়। সুন্নি অধ্যুষিত পাকিস্তানের করাচিতেও আমেরিকা-বিরোধী বিক্ষোভ দেখা যায়। বিক্ষোভকারীরা করাচির মার্কিন উপদূতাবাস লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে এবং নিরাপত্তা বলয় ভাঙার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কিছু জায়গায় অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ।

পশ্চিম এশিয়ার এই অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে ভারতেও। কাশ্মীর-সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিয়া সম্প্রদায়ের প্রতিবাদ কর্মসূচি দেখা গেছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার রাতে মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ায় আটকে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইরান ও ওমানের মাঝের এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল রফতানি হয়। সংঘাতের জেরে এই জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক তেল বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভারতের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ আমদানিনির্ভর হওয়ায় পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে নয়াদিল্লি।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *