দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বেচ্ছা নির্বাসনের অবসান। বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশে ফিরলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান। সকাল ৯টা ৫৬ মিনিটে তিনি সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান। সকাল ১১টার কিছু পরে তাঁরা ঢাকায় পৌঁছন।
তারেক রহমানের দেশে ফেরা ঘিরে সকাল থেকেই বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের ঢল নামে। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। ঢাকায় তাঁর জন্য বিরাট গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
দেশে ফিরেই তারেক রহমান সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লেখেন, “অবশেষে সিলেটে, বাংলাদেশের মাটিতে।” তাঁর প্রত্যাবর্তন ঘিরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারেক রহমানের বাড়ি ও অফিসে পুলিশি পাহারা রয়েছে, প্রস্তুত রাখা হয়েছে সেনাবাহিনীকেও।
তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে বিএনপির অন্দরে উৎসাহ তুঙ্গে। দলের নেতাদের মতে, তাঁর প্রত্যাবর্তনে আসন্ন বাংলাদেশ নির্বাচনের আগে বিএনপি আরও সংগঠিত ও শক্তিশালী হবে। আজ ঢাকার পূর্বাচলে তাঁকে স্বাগত জানাতে বড়সড় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। বুধবার থেকেই বিভিন্ন জেলা থেকে বিএনপির কর্মী-সমর্থকেরা বাস ও ট্রেনে করে সভাস্থলে আসতে শুরু করেন।
ঢাকা-সহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা জুড়ে ব্যানার, পোস্টার ও স্লোগানে ছেয়ে গিয়েছে। ‘মা-মাটি ডাকছে, তারেক রহমান আসছে’, ‘তারেক রহমান আসছে, বাংলাদেশ হাসছে’—এই ধরনের স্লোগান নজর কেড়েছে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ঘিরে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে খালেদা জিয়াকে সরিয়ে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হন। তার পর ২০০৭ সালে দুর্নীতি-সহ একাধিক মামলায় গ্রেফতার হন তারেক রহমান। ২০০৮ সালে জামিনে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য সপরিবারে ব্রিটেনে যান তিনি। তারপর দীর্ঘদিন সেখানেই ছিলেন। হাসিনা সরকারের পতনের পর অবশেষে দেশে ফিরলেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।










