Home / খবর / জেলায় জেলায় / এসআইআরের শুনানি কেন্দ্রে অশান্তি, বিজেপির সহায়তা শিবিরে হামলা চালানোর অভিযোগ শাসক দলের বিরুদ্ধে

এসআইআরের শুনানি কেন্দ্রে অশান্তি, বিজেপির সহায়তা শিবিরে হামলা চালানোর অভিযোগ শাসক দলের বিরুদ্ধে

আসানসোল : এসআইআর বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন প্রক্রিয়ায় এনুমারেশন বা গণনা ফর্ম জমা দেওয়ার পরে, শনিবার থেকে আসানসোল সহ রাজ্য জুড়ে শুনানি বা হিয়ারিং পর্ব শুরু হয়েছে।

শুনানির প্রক্রিয়ার প্রথম দিনেই আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের আসানসোলের এসবি গড়াই রোডের চেলিডাঙ্গার মণিমালা গার্লস হাইস্কুলে অশান্তির ঘটনা ঘটে। এই শুনানি কেন্দ্রের অদুরে থাকা বিজেপির সহায়তা শিবিরে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে।

বিজেপির শিবিরে থাকা দলের যুব মোর্চার বেশ কয়েকজনকে মারধর করার পাশাপাশি চেয়ার টেবিল ভাঙা হয় বলে পদ্ম শিবিরের তরফে দাবি করা হয়েছে। বিজেপির নেতা ও কর্মীদের প্রায় ঘিরে ধরে শাসক দলের কর্মীরা স্লোগান দিতে থাকেন। গোটা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

যদিও, সেই অভিযোগ শাসক দলের তরফে অস্বীকার করা হয়েছে। গোটা ঘটনাটি পুলিশের সামনেই হয়।
সেই সময় পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক এস পোন্নাবলম ও আসানসোলের মহকুমাশাসক (সদর) বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য সেখানে আসেন। তখন জেলাশাসকের উপস্থিতিতে শাসক দলের কিছু লোক শুনানি কেন্দ্রে ঢুকে স্লোগান দিতে শুরু করেন। জেলাশাসক তখন সেখানে উপস্থিত পুলিশ অফিসারদের তাদেরকে কেন্দ্র থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এই সময় জেলাশাকের সাথে বেশ কিছু বিজেপি নেতার বাকবিতণ্ডাও হয়।

এই বিষয়ে বিজেপির রাজ্য কমিটির নেতা কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, বিজেপি শুনানি কেন্দ্রের ১০০ মিটার দূরে একটি ক্যাম্প তৈরি করেছিল। যারা এই শুনানিতে আসছেন, তাদের সহায়তা করার জন্য। আচমকা তৃণমূল কংগ্রেসের গুন্ডারা ক্যাম্পে হামলা চালায়। বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী তাতে আহত হন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।

তিনি আরও বলেন, যেভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা শুনানি কেন্দ্রের বাইরে পুলিশের সামনেই তাণ্ডব চালানো ও কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে স্লোগান দেয়, তাতে প্রমাণ হয় যে তারা এসআইআর প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠুভাবে এগোতে দিতে চায় না। গোটা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠল। আমরা গোটা বিষয়টি যেখানে জানানোর, সেখানে জানিয়েছি।

তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা আসানসোল পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র অভিজিৎ ঘটক বলেন, তৃণমূল কোনও আক্রমণ করেনি। বিজেপি হিয়ারিং কেন্দ্রের গেটের ঠিক কাছে একটি শিবির তৈরি করেছিল। যার ফলে এখানে আসা মানুষের অসুবিধা হচ্ছিল। তারাই বিজেপির বিরুদ্ধে তাদের আওয়াজ তুলেছেন।

এদিকে, এই প্রসঙ্গে জেলাশাসক বলেন, এই কেন্দ্রের অদূরে কোন একটা রাজনৈতিক দল হেল্প ডেস্ক করেছিল। পুলিশ প্রশাসনের তরফে সেটা সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়। তখন কোনও সমস্যা হয়েছিল। পুলিশ গোটা বিষয়টা সামাল দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের কোন নির্দেশ নেই হেল্প ডেস্ক করা নিয়ে। যা, সব রাজনৈতিক দলকে জানানো হয়েছে। এদিন এই শুনানি কেন্দ্রে উল্লেখযোগ্য ভিড় ছিল। যারা আসছেন, তাদেরকে নোটিশ দেখে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। বহিরাগত কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনের নিযুক্ত মাইক্রো অবজারভার, পর্যবেক্ষক, ইআরও এবং এইআরওদের তত্ত্বাবধানে শুনানির কাজ চলেছে বলে এদিন জেলাশাসক এস পোন্নাবলম জানিয়েছেন।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *