Home / খবর / জেলায় জেলায় / কুলটিতে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার সূচনা, সরকার বদলের ডাক দিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবীর

কুলটিতে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার সূচনা, সরকার বদলের ডাক দিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবীর

কুলটি : বাংলার বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিবর্তনের লক্ষ্যে রবিবার থেকে রাজ্যের চারটি জায়গা থেকে “পরিবর্তন যাত্রা”-র শুরু করল বঙ্গ বিজেপি। আগামী ১৫ মার্চ কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভা দিয়ে এই পরিবর্তন যাত্রার শেষ হবে।

এদিন বিকেলে দক্ষিণবঙ্গের আসানসোলের কুলটি বিধানসভার চিনাকুড়ি ৩ নং মাঠে একটি পরিবর্তন যাত্রার শুভারম্ভ করেন কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী ও রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁরা রাজ্যে পরিবর্তন হচ্ছে বলে দাবি করেন। এই পরিবর্তন এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজ্যের দুর্নীতি ও অনুপ্রবেশ নিয়ে সরব হয়ে রাজ্যের শাসক দলকে আক্রমণ করেন। এদিন কুলটিতে আসার কথা ছিল কেন্দ্রীয় নেত্রী স্মৃতি ইরানির। কিন্তু তিনি আসেননি। এই উপলক্ষে কুলটিতে একটি সভার আয়োজন করা হয়েছিল।

এই সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আসানসোল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য, বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ, পুরুলিয়ার জয়পুরের বিধায়ক নরহরি মাহাতো, কাশিপুরের বিধায়ক কমলাকান্ত হাঁসদা, বলরামপুরের বিধায়ক বানেশ্বর মাহাতো, পরিবর্তন যাত্রার কনভেনর বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী, আইনজীবী প্রিয়ঙ্কা টিব্রেওয়াল, আসানসোল দক্ষিণ ও কুলটি বিধানসভার দুই বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল ও ডা. অজয় পোদ্দার, রাজ্য নেতা কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়, প্রাক্তন মেয়র জিতেন্দ্র তেওয়ারি।

প্রথমে পরিবর্তন যাত্রার সভায় ও পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, এই বাংলায় নারীদের কোনও সম্মান ও সুরক্ষা নেই। প্রতিদিনই বাংলার কোথাও না কোথাও নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। ১৫ বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রীত্বে রাজ্য সরকার চলছে। কিন্তু বাংলায় কোন কর্মসংস্থান হয়নি। যুব সমাজ চাকরির জন্য রাস্তায় বসছেন। তাদেরকে চাকরি পেতে হলে টাকা দিতে হচ্ছে।

অন্নপূর্ণা দেবী আরও বলেন, আর বিজেপি যেসব রাজ্যে সরকার চালাচ্ছে সেখানে দেখুন, ডাবল ইঞ্জিনে আমুল পরিবর্তন হয়েছে। সবদিকেই উন্নয়ন হচ্ছে। কিন্তু বাংলা পিছিয়ে যাচ্ছে। বাংলার ছেলেমেয়েরা চাকরির জন্য বাইরে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। বিজেপি সরকারে এলে সবকিছুর পরিবর্তন হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, বাংলায় এবার পরিবর্তন হবেই। এখন বাংলায় শুধু সিন্ডিকেট ও তোলাবাজি হয়। বিজেপি আসার পর তা বন্ধ হয়ে যাবে। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি বলেন, আসানসোল লোকসভা শিল্পাঞ্চল বলে পরিচিত ছিল। এখানে লোকেরা জীবিকা নির্বাহ করতে আসতেন। কিন্তু এখন এখানকার মানুষকে বাইরে যেতে হচ্ছে। এখানে এতো রাজস্ব আদায় হয়। কিন্তু রাস্তা দেখে বোঝার উপায় নেই। দেখে বোঝা যাচ্ছে না মার্চ মাস না আগস্ট মাস।এখানে বিধায়কদের ছেলে পিস্তল নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। এখানে মিড ডে মিল চুরি হয়।

তিনি আরও বলেন, যে কোনও কাজের জন্য আসানসোলে আসতেন। এখন এখানকার ছেলেরা টোটো অটো চালাচ্ছে। ভিন রাজ্যে হোটেলে বিছানা পরিষ্কার করছে। শিল্প কারখানাতে আজ তোলাবাজি হয়। শিল্প সংকটে। আমাদের ছেলেরা এখন বেয়ারার কাজ করছে। তামিলনাড়ুতে পাথর ভাঙছে বাংলার ছেলে। ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছে বাংলার ছেলেরা। বাংলার ছেলেরা আজ পরিযায়ী শ্রমিক। আর এখানে চোরেদের সরকার, কেন্দ্রের যোজনার টাকা চুরি করে নিচ্ছে। স্কুলের টাকা চুরি হচ্ছে। লুঠ হচ্ছে। গ্রামবাংলার মানুষদের দায়িত্ব লুঠের সরকারকে ঘাড় ধরে বার করে দেওয়া। তার দাবি, ৩৯ লক্ষ লোকের জন্য বাড়ির টাকা মোদীজি পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু আপনারা তা পাননি। এই লুঠ চললে পশ্চিমবঙ্গ মানুষের জীবনের পরিবর্তন হবে না।

দিলীপবাবু আক্রমণ করে বলেন,ভাতার টাকা নিয়ে নিন। ভোট দেবেন না। কারণ ভাতা নিতে থাকলে মৃত্যুর সময় ছেলেকে কাছে পাবেন না। তাঁরা পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে ভিন রাজ্যে চলে যাবে।সমস্ত মেধা যৌবন বাংলার বাইরে চলে যাচ্ছে।
তাই আমরা পরিবর্তন যাত্রা করছি। লিড বাড়াতে হবে। নতুন নতুন জায়গায় জিততে হবে। চিন্তা করবেন না। আপনারা আপনাদের বুথ দেখুন। পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি না এলে সারা দেশ অসুরিক্ষত। এ রাজ্যের সরকার রাষ্ট্র বিরোধী সরকার। কলকাতায় দিনে বন্দুক ঠেকিয়ে সন্ত্রাস করা হয়। আসানসোলে সাতটায় সাতটা বিধায়ক চাই আমরা বলে দিলীপ ঘোষ দলের নেতা ও কর্মীদেরকে চাঙ্গা করার টোটকা দেন।

সভায় সাংসদ সৌমিত্র খাঁ বলেন, শিল্প কারখানা বন্ধ। কুলটি তোলাবাজি করা হয়। সরকার ক্লাবকে পয়সা দেয় কিন্তু সনাতনীদের অত্যাচার করে। তিনি আরও বলেন, সরকার বলেছিল, ২০১৩ সালে যুবশ্রী দেবো। কিন্তু কোথায় ?
অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, বালি মাফিয়ারা ডিস্টার্ব করছে। তারা ভয় দেখাচ্ছে। তৃণমূলকে ভোট দেওয়া মানে নিজের মেয়েকে মুসলিম ঘরে বিয়ে দেওয়া।

সভায় আসানসোল পুরনিগমের প্রাক্তন মেয়র জিতেন্দ্র তেওয়ারি বলেন , তৃণমূল ঝান্ডা লাগিয়ে আমাদের স্বাগত করেছে। আসানসোলের তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা কুলটিকে অপমান করে। আপনারা আমাদের সঙ্গে আসুন। কুলটি বাংলাকে রাস্তা দেখাবে। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্য নেতা কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা নিজেকে শোধরাইনি। ২৬ পরিবর্তন সময়ের অপেক্ষা। তালিকা বের হওয়ার পর উত্তেজনা ছড়াবে। উত্তেজিত হবেন না। কোনও ফাঁদে পা দেবেন না।

বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, আসানসোলে জল নেই। ব্রিজ ভেঙেছে। বালি চুরি করা হচ্ছে । সব জায়গায় জল সংকট। এই জন্য পরিবর্তন দরকার। তিনি আরও বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গরীব মানুষকে বাড়ি দেননি। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও কর্মীদেরকে বাড়ি দিয়েছেন। এই রাজ্য বৃদ্ধাশ্রমে পরিণত হয়েছে। তাই সবাই সোনার বাংলা গড়ার অঙ্গীকার করুন।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *