Home / খবর / জেলায় জেলায় / জামুড়িয়ায় চাঞ্চল্য, ২৪ ঘন্টার মধ্যেই কিনারা, পরকীয়ায় স্বামীকে খুনের অভিযোগে স্ত্রী সহ ধৃত দুই

জামুড়িয়ায় চাঞ্চল্য, ২৪ ঘন্টার মধ্যেই কিনারা, পরকীয়ায় স্বামীকে খুনের অভিযোগে স্ত্রী সহ ধৃত দুই

জামুড়িয়া : পরকীয়ার জেরে দিনমজুর স্বামীকে খুনের অভিযোগ উঠল স্ত্রীর বিরুদ্ধে। প্রেমিককে সঙ্গে পরিকল্পনা করে স্ত্রী গোটা ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে তদন্তের পরে পুলিশের অনুমান।

আসানসোলের জামুড়িয়া থানার শ্রীপুর ফাঁড়ির পরিহারপুর এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটেছে। যদিও এই ঘটনার ২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই নির্দিষ্ট অভিযোগের মঙ্গলবার মৃত ব্যক্তির স্ত্রী মৌসুমী বাউরি ও তার প্রেমিক অবিরাম বাউরি ওরফে গজলাকে গ্রেফতার করে জামুড়িয়া থানার পুলিশ। খুন হওয়া ব্যক্তির নাম সঞ্জিত বাউরি। বুধবার ধৃত দুজনকে আসানসোল আদালতে পেশ করা হয়। আবেদনের ভিত্তিতে বিচারক দুজনের জামিন নাকচ করে সাতদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘটনায় পরিহারপুর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। জানা গেছে, জামুড়িয়ার পরিহারপুরের বাসিন্দা বছর ৫৩ র পেশায় দিনমজুর সঞ্জিত বাউরির সঙ্গে ১৯ বছর আগে বাঁকুড়ার মৌসুমী বাউরির বিয়ে হয়। তিন মেয়ের মা হলেন মৌসুমী। স্বামী দিনমজুর হওয়ায় মৌসুমীর সংসারে অভাব অনটন লেগেই থাকত। এরমধ্যেই মৌসুমী পরকীয়া বা অবৈধ প্রেমে জড়িয়ে পড়ে ওই এলাকারই অন্য পাড়ার বাসিন্দা অবিরাম বাউরি ওরফে গজলা নামে এক যুবকের সঙ্গে। সম্প্রতি স্ত্রীর এই প্রেমের সম্পর্ক স্বামী জেনে ফেলে। যা নিয়ে স্বামীর সাথে মৌসুমীর অশান্তি হয়। এরপরই নিজের সম্পর্কে পথের কাঁটা স্বামী সঞ্জিত বাউরিকে সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করে মৌসুমী তার প্রেমিকের সাহায্য নিয়ে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে পরিহারপুর এলাকারই এক পরিত্যক্ত বন্ধ খনি মুখের কাছে সঞ্জিত বাউরিকে মারতে ভারী কোনও জিনিস দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে অবিরাম বাউরি। তারপর দেহ লোপাট করার জন্য সেখানকার জঙ্গলে ভর্তি খনির মধ্যে ফেলে দেওয়া হয় । স্বাভাবিক ভাবেই সঞ্জিত সোমবার রাতে বাড়ি ফিরে যায়না। মঙ্গলবার সকাল থেকে সঞ্জিতের পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ শুরু করে। বেশ কিছুক্ষন পরে প্রতিবেশী নরেশ বাউরি নামে এক যুবক সঞ্জিত বাউরির সাইকেল খনি এলাকায় দেখতে পান। তিনি তা সঙ্গে সঙ্গে তার বাড়িতে জানান। এরপর বাড়ির লোকেরা সেখানে খোঁজ করতে আসেন। তারা সেখানে সঞ্জিতের মাথার টুপি ও পায়ের চটি দেখতে পান। এরপরে আরও একটু খোঁজ করতেই তারা সংলগ্ন পরিতক্ত্য খনির জঙ্গলের মধ্যে সঞ্জিতের ক্ষতবিক্ষত দেহ দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে গোটা বিষয়টি জানিয়ে জামুড়িয়া থানার শ্রীপুর ফাঁড়িতে খবর দেওয়া হয়।

সঙ্গে সঙ্গে শ্রীপুর ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয় যে, সঞ্জিত বাউরিকে পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের আরও সন্দেহ হয় তার স্ত্রী মৌসুমী এই ঘটনার পেছনে রয়েছে। তারা লক্ষ্য করেন, মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার পর থেকে মৌসুমীর মোবাইলে অভিরাম বাউরি ফোন বারবার আসছে। এরপর পরিবারের সদস্যরা গোটা বিষয়টি লক্ষ্য করে মৌসুমিকে তার মোবাইলের স্পিকার অন করে তুলতে বলাতেই এই চক্রান্তের বিষয়টি সামনে আসে। এরপরে পরিবারের সদস্যরা মৌসুমীর ফোনে আসা নম্বর পুলিশকে দেন। পুলিশ সেই মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করে মঙ্গলবার রাতেই এলাকার একটা ইটভাটা থেকে অভিরামকে গ্রেফতার করে। তাকে জেরা করতেই বেরিয়ে আসে আসল কথা। এরপরে পুলিশ গ্রেফতার করে মৌসুমীকেও।

বুধবার সকালে জামুরিয়া থানার শ্রীপুর ফাঁড়িতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে গোটা ঘটনাটি বিস্তারিত ভাবে জানান আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি (সেন্ট্রাল) ধ্রুব দাস। সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে ছিলেন এসিপি (সেন্ট্রাল ২) বিমান মৃধা, রানিগঞ্জ সার্কেল ইন্সপেক্টর সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়, জামুড়িয়া থানার ওসি সৌমেন্দ্র নাথ সিংহ ঠাকুর।

ডিসিপি ( সেন্ট্রাল) বলেন, জামুড়িয়া থানার ওসি নেতৃত্বে পুলিশ কর্মীরা এই ঘটনার কিনারায় ভালো কাজ করেছেন। ধৃতরা পুলিশের প্রাথমিক জেরায় নিজেদের বয়ানে তাদের কৃতকর্মের কথা স্বীকার করেছে। মৌসুমী ও তার এক বিশেষ বন্ধুর সাহায্যে তাদের পথের কাঁটা সঞ্জিত বাউরিকে পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে বলেই প্রাথমিক তদন্তের পরে পরিষ্কার হয়েছে। এর পাশাপাশি পুলিশের হাতে বেশ কিছু তথ্য ইতিমধ্যেই এসেছে। ধৃতদেরকে হেফাজতে নিয়ে সবকিছু খতিয়ে দেখা হবে। কিভাবে গোটা পরিকল্পনা মতে এই ঘটনা তারা ঘটিয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে ।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *