Home / খবর / জেলায় জেলায় / বড়জোড়া এলাকায় ব্যাপক হারে চোরাই কয়লা, আকরিক লোহা কারবার চলছে, নেতাদের মদতে

বড়জোড়া এলাকায় ব্যাপক হারে চোরাই কয়লা, আকরিক লোহা কারবার চলছে, নেতাদের মদতে

বড়জোড়া (বাঁকুড়া) : বাঁকুড়া জেলায় বেশকিছু জায়গায় বর্তমানে কয়লা পাচারের বড়সড় চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

পশ্চিম বর্ধমান জেলার রানিগঞ্জ এলাকা সহ ঝাড়খণ্ড রাজ্য থেকে বেআইনিভাবে কয়লা পাচারকারীরা বাঁকুড়ায় দেদার চোরাচালান করছে। বড়জোড়া, মেজিয়া ও শালতোড়া হয়ে বাঁকুড়ায় চোরাই কয়লা পাঠানো হচ্ছে। বেআইনিভাবে সাইকেল, বাইক ও ম্যাটাডোরে বস্তা ভরে কয়লা বাঁকুড়া হয়ে জঙ্গলমহলে পাচার করা হচ্ছে বলে পুলিসের একাংশ জানিয়েছে।

এব্যাপারে বাঁকুড়ার এক পুলিস আধিকারিক বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই বেআইনি কয়লা পাচারের খবর পাওয়া যাচ্ছে। পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশকিছু দিন আগেও পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও বীরভূমের একাংশে বেআইনি কয়লা কারবারের রমরমা ছিল। তৃণমূল জামানাতেও বেশকিছু এলাকায় বেআইনি কয়লা চলার অভিযোগ উঠে।

যদিও কয়লা পাচার নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি ময়দানে নামার পর বেআইনি কয়লা খাদানগুলি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ফের কয়লা মাফিয়ারা সক্রিয় হয়েছে বলে পুলিস জানিয়েছে। আরও জানা গেছে, বেআইনি কয়লা, আকরিক লোহা কারবার রমরমা চলছে বড়জোড়াতে। কয়লা মাফিয়া সৈকত – এর মদতে চলছে বিভিন্ন চোরায় কারবার।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, বাঁকুড়ার তালডাংরার আগে শিবডাঙ্গা জঙ্গলে অবৈধ চোরায় কাঁটা আছে কয়লা মাফিয়া সৈকতের। ওই কাঁটাতে হলদিয়া ডক থেকে চোরা পথে আসা আকরিক লোহা মজুত করা হয়। এরপর সেই মজুত করা আকরিক লোহা ট্রাকে করে চোরাচালান করা হয় বড়জোড়ার বিভিন্ন কারখানায়।

পুলিস সুত্রে জানা গেছে, এর পাশাপাশি ঝাড়খণ্ড থেকে ৩০ – ৪০ ডাম্পার কয়লা রোজ আসে বড়জোড়ায়। সেই সব বেআইনি কয়লা সৈকতের অ্যাকাউন্টে পাচার হয়
বড়জোড়ার বিভিন্ন কল- কারখানায়। এছাড়াও বিভিন্ন চোরায় স্ক্র্যাপ পাচার করা হয় বড়জোড়ার কয়েকটি কারখানায়। এইভাবে বছরে কোটি কোটি টাকার কারবার চালাচ্ছে মাফিয়া সৈকত।

চোরা কারবারিদের দৌরাত্ম্য দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে বড়জোড়াতে। অথচ পুলিস প্রশাসনের কোনও নজর নেই, হুঁশ নেই এইসব বিষয়ে। অবশ্য ওই কয়লা মাফিয়া প্রকাশ্য বলে বেড়ায়, জেলার উচ্চপদস্থ সমস্ত পুলিস অফিসারদের মোটা টাকা মাসোহার দিয়ে কিনে রেখেছে। শাসকদলের নেতারাও সেই ভাগ পায়। তাই কয়লা মাফিয়া সৈকতের টিকি ছুঁতে পারে না পুলিস।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, শাসক দলের এক বিধায়ক কয়লা মাফিয়া সৈকতের গড ফাদার। তাই সৈকতের এত বাড়বাড়ন্ত।

অন্যদিকে বেআইনি কয়লা কম দামে ইটভাটায় বিক্রি করা হয় বলে পুলিস আধিকারিকরা জানতে পেরেছেন।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *