আসানসোল : সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান নিয়ে তৃণমূলকে তোপ আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি বিধায়িকা অগ্নিমিত্রা পালের।
তিনি আজ তাঁর বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করেন। এদিন সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। সম্প্রতি বিধানসভায় সংখ্যালঘু সমাজকে নিয়ে তাঁর দেওয়া এক বক্তব্য ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, তাঁর বক্তব্যকে সঠিক প্রেক্ষাপটে বোঝা প্রয়োজন।
তিনি দাবি করেন, গত ১৫ বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্যে সরকার চলছে, কিন্তু এই সময়ে সংখ্যালঘু সমাজের প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি। তাঁর প্রশ্ন, “সরকার জানাক, গত ১৫ বছরে সংখ্যালঘু সমাজ থেকে কতজন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা প্রশাসনের উচ্চপদে পৌঁছেছেন?”
তাঁর আরও অভিযোগ, তৃণমূল সংখ্যালঘু সমাজের যুবকদের শুধুমাত্র ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করেছে, তাদের সার্বিক উন্নয়ন করেনি, এ কথাই তিনি বিধানসভায় বলেছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমানে বাংলায় কিছু নেতা তৃণমূলের ‘বি টিম’ হিসেবে কাজ করছেন এবং রাজনৈতিক সমীকরণে বিভ্রান্তি তৈরি করছেন।
কর্মসংস্থান ইস্যুতে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য দাবি করেন, রাজ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু যদি তা সত্যি হতো, তাহলে ‘যুব সাথী’ প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করতে যুবকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হতো না।
তাঁর কথায়, “এতেই প্রমাণ হয় গত ১৫ বছরে যুবকদের জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থানের কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি। তাই বেকার যুবক-যুবতীরা ভাতার জন্য লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছেন।”
তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর রাজ্যে শিল্প সম্মেলন হলেও এখনও পর্যন্ত সরকার শ্বেতপত্র প্রকাশ করেনি যে, কত বিনিয়োগ এসেছে এবং কতগুলি কারখানা চালু হয়েছে।
শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও তিনি তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করে বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থাকে দুর্বল করা হয়েছে যাতে যুব সমাজ সরকারের কাছে প্রশ্ন তুলতে না পারে। ‘যুব সাথী’ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, নথি জমা দেওয়ার পর আবেদনকারীদের কোনও রসিদ দেওয়া হচ্ছে না, ফলে ভবিষ্যতে তার প্রমাণ থাকছে না।
এছাড়া আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, তৃণমূলের টিকিট পেতে প্রার্থীদের অর্থ দিতে হয় এবং নির্বাচনে জিতলে অবৈধভাবে আদায় করা অর্থের বড় অংশ দলকে দিতে হয়, এমন অভিযোগও তোলেন তিনি।
তাঁর দাবি, তৃণমূলে বিধায়ক পদে টিকিট বিক্রি হয়।
অগ্নিমিত্রা পালের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।










