চিত্তরঞ্জন: এসআইআর বা ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধনের প্রক্রিয়ায় চরম বিপাকে চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার বহু সুপারভাইজার।
আজকের পরেই ২৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে শুনানি পর্ব। আর এই শুনানিতে মাইক্রো অবজারভার হিসেবে দায়িত্ব পড়েছে চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার ২৫ জন সুপারভাইজারের। এরা ছাড়াও বি ক্লাস আধিকারিকদেরও এই দায়িত্বে নিযুক্ত করা হতে পারে বলে আশঙ্কা। মুশকিল হল এদের অনেকেরই দায়িত্ব পালন করার জন্য সুদূর উত্তরবঙ্গের কার্শিয়াং মাথাভাঙ্গা রায়গঞ্জ ইত্যাদি জায়গায় যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এখানেই চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন রেলকর্মীরা। কারণ মাত্র দু’দিনের নোটিশে এত দূরে যাওয়া এবং সেখানে এসআইআরের মত অতি স্পর্শকাতর বিষয়ে কাজ করার ঝক্কি তারা কিভাবে সামলাবেন তা ভেবে পাচ্ছেন না।
বিষয়টি নিয়ে ২৫ ডিসেম্বর সি এল ডব্লু লেবার ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সংস্থার প্রিন্সিপাল চিফ পারসোনেল অফিসারের কাছে আবেদন জানিয়ে অবিলম্বে হস্তক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে। তারা বলেছেন চিত্তরঞ্জন থেকে ৫০০/৭০০ কিলোমিটার দূরে প্রত্যন্ত এলাকায় দু’দিনের নোটিশে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব। বিশেষ করে বছর শেষের শীতকালীন এই সময়ে উত্তরবঙ্গে যাওয়ার সমস্ত ট্রেন পর্যটকদের ভিড়ে ঠাসা। কোনও ট্রেনেই রিজার্ভেশন পাওয়া যাচ্ছে না। যদিও নির্বাচন কমিশনের দেওয়া দায়িত্ব নাগরিক হিসেবে তারা পালন করতে প্রস্তুত তবুও ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছে এত কম সময়ে এত দূরবর্তী জায়গায় যাওয়ার নির্দেশ সঠিক চিন্তাভাবনার উপযোগী নয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আবেদন জানিয়ে বলা হয়েছে, রেল কর্তৃপক্ষ যেন অবিলম্বে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে রেল কর্মীদের সুরাহার ব্যবস্থা করেন।
একান্তই এই কাজে রেল কর্মীদের নিযুক্ত করতে হলে অন্ততপক্ষে ১৫ দিনের আগাম নোটিশ দেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষ লেবার ইউনিয়নের দেওয়া স্মারকলিপি সহ নির্বাচন কমিশনের আঞ্চলিক কার্যালয়ে লিখিত আবেদন পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে ইউনিয়নের নেতা রাজীব গুপ্ত জানিয়েছেন।
তবে এ প্রসঙ্গে এস আই আর প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী এক আধিকারিক বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ পালন করতেই হবে। কারণ মাইক্রো অবজার্ভারের দায়িত্ব সম্পর্কিত নির্দেশ পোল পার্টি সেল থেকে জারি করা হয়, সেখানে নির্দিষ্ট কোনও এলাকা কোন অবজারভারের জন্য আগাম স্থির করা হয় না। যদিও এই কাজে ৩০ হাজার টাকা ভাতা এবং যাতায়াত খরচা দেওয়ার বন্দোবস্ত নির্বাচন কমিশন থেকে করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।










