আসানসোল : গোটা রাজ্যের পাশাপাশি আসানসোল এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলায় এসআইআর বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন প্রক্রিয়ার অধীনে শুনানি বা হিয়ারিং চলছে।
বর্তমানে শুনানি প্রক্রিয়া নিয়ে আসানসোলের কল্যানপুরে জেলাশাসক কার্যালয়ের পশ্চিম বর্ধমান জেলাশাসক বা ডিএম এস পোন্নাবলমের সভাপতিত্বে সোমবার একটি সর্বদলীয় বৈঠক হয়। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এদিনের বৈঠকে ইভিএমের এফএলসি বা ফাস্ট লেভেল চেকিং নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন স্বীকৃত সমস্ত অনুমোদিত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তারা জেলা প্রশাসনের তরফে ডিএমের কাছে শুনানি প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাদের মতামত তুলে ধরেন।
শুনানিতে কি সমস্যা হচ্ছে, কোথায় অসুবিধা হচ্ছে, সবকিছুই রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা ডিএমকে জানান।
বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বিরোধী দল বিজেপি ও কংগ্রেসের নেতারা পশ্চিম বর্ধমান জেলায় এসআইআরে শুনানি প্রক্রিয়া নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা প্রশান্ত চক্রবর্তী বলেন, এই জেলায় শুনানি প্রক্রিয়াটি এখন পর্যন্ত যেভাবে চলছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট। কিছু বিষয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল। শুনানির বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পদক্ষেপে দল সন্তুষ্ট।
কংগ্রেসের তরফে আসানসোল পুরনিগমের কাউন্সিলর এস.এম. মুস্তাফা বলেন, বৈঠকে এসআইআরের শুনানি প্রক্রিয়া এখন চলছে। সবকিছু ঠিক রয়েছে। এর পাশাপাশি ইভিএমের ফাস্ট লেভেল চেকিং নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ইভিএম মেশিনগুলি প্রাথমিকভাবে চেকিং করা হবে। জেলাশাসক আমাদেরকে বলেছেন, সমস্ত অনুমোদিত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন এবং তাদের উপস্থিতিতে চেকিং করা হবে।
তৃণমূল কংগ্রেস নেতা আকাশ মুখোপাধ্যায় এদিন বৈঠকের পরে জেলাশাসক, মহকুমাশাসক সহ পুরো জেলা প্রশাসনের প্রশংসা করে বলেন, এসআইআরের প্রথম পর্যায় শেষ হওয়ার পরে এখন যে শুনানি প্রক্রিয়াটি চলছে, তা এখনও পর্যন্ত সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে। এর জন্য জেলা প্রশাসন প্রশংসার দাবিদার।
তিনি আরও বলেন যে, কিছু কেন্দ্রে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অমান্য করে ৮৫ বছরের বেশি বয়সীদের শুনানি কেন্দ্রে ডাকা হচ্ছে। এই বিষয়ে এদিন জেলাশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, এমন কিছু লোক আছেন যারা ৮৫ বছরের কম বয়সী, কিন্তু গুরুতর অসুস্থ অথবা বিছানা থেকে উঠতে পারছেন না। এই ধরণের লোকদেরও শুনানির জন্য ডাকা হচ্ছে। জেলাশাসক আমাদের উদ্বেগের কথা শুনেছেন এবং বলেছেন যে যদি এমন কোনও সমস্যা থাকে তবে তা সমাধান করা হবে। জেলাশাসক বলেছেন স্থানীয় বিএলওকে জানানো হবে যে, যদি এমন কোনও ঘটনা থাকে তবে তাদের বাড়িতে শুনানি করা হবে। আকাশ মুখোপাধ্যায় বলেন, এদিনের বৈঠকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় যদি দেখা যায় যে এই জেলায় একজনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, তাহলে তার তীব্র বিরোধিতা করা হবে।










