বুবাই শীল, জলপাইগুড়ি: জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব পড়ছে সিকিমের হিমবাহ ও প্রাকৃতিক জলাধারগুলিতে। বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে অন্তত ১৭টি হিমবাহ-উৎপন্ন হ্রদ। এর মধ্যে একটি ভেঙে পড়লেও উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা ভয়াবহ বন্যার মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করলেন রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের চেয়ারম্যান কল্যাণ রুদ্র।
জলপাইগুড়ির আনন্দ চন্দ্র কলেজ-এ আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি উপগ্রহচিত্র তুলে ধরে সম্ভাব্য বিপদের কথা জানান। ২০২৩ সালে লোনাক হ্রদ ভেঙে সিকিমে যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাব নেমে এসেছিল তিস্তা নদী-তেও। বহু মানুষের মৃত্যু হয়, যাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সেনাকর্মীও ছিলেন। সেই ধাক্কা এখনো পুরোপুরি সামাল দিতে পারেনি তিস্তা অববাহিকা। নদীর একাধিক অংশে পলির স্তর জমে গতিপথ বদলে গিয়েছে।
কল্যাণ রুদ্র জানান, সিকিমের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত এই হ্রদগুলির আয়তন ক্রমশ বাড়ছে। বৃষ্টিপাতের ছন্দেও পরিবর্তন এসেছে। অরক্ষিত অবস্থায় থাকা জলাধারগুলির মধ্যে কোনও একটি ভেঙে গেলে তিস্তায় আকস্মিক জলপ্রবাহ নেমে এসে শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার হয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চল বিপর্যস্ত হতে পারে।

কল্যাণ রুদ্র, চেয়ারম্যান, দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ
তিনি বলেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাই কেন্দ্রীয় স্তরে দ্রুত সমীক্ষা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমবাহ গলনের গতি বাড়ছে, ফলে এই ধরনের গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড বা হ্রদভাঙা বন্যার আশঙ্কাও বাড়ছে উত্তর-পূর্ব ও উত্তরবঙ্গ অঞ্চলে।










