উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়: ক্যানিংয়ে মহিলা হোমগার্ডের রহস্যমৃত্যু মামলায় অবশেষে কড়া পদক্ষেপ নিল পুলিশ। অভিযুক্ত সাব-ইন্সপেক্টর সায়ন ভট্টাচার্যকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার তদন্তে ছয় সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। এই সিটের নেতৃত্বে থাকছেন বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রূপান্তর সেনগুপ্ত।
ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার সন্ধ্যায়। ক্যানিংয়ের পুলিশ কোয়ার্টার থেকে উদ্ধার হয় হোমগার্ড গুলজান পারভিন মোল্লার দেহ। তিনি জীবনতলা থানার উত্তর মৌখালী এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং ক্যানিং থানায় কর্মরত ছিলেন। গুলজানের বাবা রশিদ মোল্লা, যিনি তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী ছিলেন, দু’বছর আগে পঞ্চায়েত ভোটের সময় ভাঙড়ে খুন হন। তার পরই পরিবারের বড় মেয়ে গুলজান হোমগার্ডের চাকরি পান।
দেহ উদ্ধারের পরই পরিবারের তরফে আত্মহত্যার দাবি উড়িয়ে খুনের অভিযোগ তোলা হয়। মৃতার পরিবারের অভিযোগের তির গিয়ে পড়ে ক্যানিং থানার সাব-ইন্সপেক্টর সায়ন ভট্টাচার্যের দিকে। তাঁদের দাবি, গুলজানের সঙ্গে ওই এসআই-এর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল এবং সেই সম্পর্ক ঘিরে টানাপোড়েনের জেরেই এই ঘটনা ঘটে। মৃতার কাকা ছোমেদ মোল্লার তরফে অভিযুক্ত এসআই-এর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত সাব-ইন্সপেক্টর পলাতক বলে জানা যায়। অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতেই সায়ন ভট্টাচার্যকে সাসপেন্ড করা হয়। সোমবার আনুষ্ঠানিক ভাবে সিট গঠনের ঘোষণা করা হয়। তদন্তকারীদের আশা, দ্রুতই এই মৃত্যুর নেপথ্যের প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।
এদিকে সোমবার মৃতার কাকা ছোমেদ মোল্লা জানান, রবিবার রাতে ময়নাতদন্তের পর দেহ উত্তর মৌখালির বাড়িতে আনা হয় এবং রাতেই দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। তাঁর দাবি, অভিযুক্ত এসআই-এর বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হোক।










