সালানপুর : চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে লেখা পরামর্শ উপেক্ষা করে এক মেডিকেল স্টোরের দোকানদারের নিজের খেয়ালে ‘হাইডোজের’ ওষুধ দেওয়ার অভিযোগে এক অন্তঃসত্ত্বার গৃহবধূর গর্ভপাত হওয়ার অভিযোগ উঠল।
এই ঘটনায় আসানসোলের সালানপুর থানার জেমারি এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ওই গৃহবধূর পরিবারের সদস্যরা এই ঘটনায় সালানপুরের জেমারি রেলগেট সংলগ্ন একটি ঔষধের দোকানে এসে বিক্ষোভ দেখান। তারা এই ঘটনার জন্য ওই দোকান মালিককে কাঠগড়ায় তুলেছেন।
যদিও দোকান তার বিরুদ্ধে উঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে সালানপুর থানার পুলিশ এলাকায় আসে। পুলিশ বিক্ষোভকারী ও দোকান মালিকের সঙ্গে গোটা বিষয় নিয়ে কথা বলে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
জানা গেছে, সালানপুর থানার জেমারি শিরিষবেড়িয়া এলাকার বাসিন্দা বছর ১৯ র চায়না মাহাতো অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। দিন তিনেক আগে তিনি শারীরিক অসুস্থতা বোধ করায় পরিবারের সদস্যরা তাকে স্থানীয় চিকিৎসক এ.পি. চৌধুরির কাছে নিয়ে যান। তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে চিকিৎসক নির্দিষ্ট ডোজের গা, হাতপা ব্যথা কমার একটি ওষুধ প্রেসক্রিপশনে লিখে দেন। সেই প্রেসক্রিপশন নিয়ে পরিবারের সদস্যরা জেমারি রেলগেট সংলগ্ন পাল মেডিকেলে ওষুধ কেনেন।
অভিযোগ, সেখানেই গন্ডগোলের সূত্রপাত হয়। দোকান মালিক বিনয় পাল চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন লেখা পরামর্শ অগ্রাহ্য করে ‘হাইডোজের’ ১০০ পাওয়ারের বদলে ২০০ পাওয়ারে ওষুধ দেন।
পরিবারের সদস্য গৃহবধূর শাশুড়ি প্রমিলা মাহাতো অভিযোগ করে বলেন , বাড়ি গিয়ে সেই ওষুধ খাওয়ার পরই চায়না মাহাতোর শরীর আরও খারাপ হয়। অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হয়। সঙ্গে সঙ্গে তীব্র রক্তক্ষরণ। আতঙ্কে পরিবার তাকে ফের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে ওষুধ দেখে চিকিৎসক নিজেই বিস্মিত হন।
তিনি স্পষ্ট করে তার পরিবারের সদস্যদের জানান, এই ওষুধ নির্ধারিত ডোজের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী এবং অন্তঃসত্ত্বা মহিলার ক্ষেত্রে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পরের তিন দিন ধরে অবস্থার অবনতি হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত রবিবার তাকে পিঠাকেয়ারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা জানিয়ে দেন, গর্ভপাত হয়ে গেছে।
এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই জেমারিতে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বহু গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে ওই ওষুধের দোকান ঘেরাও করেন। তারা দোকান বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ আরও গুরুতর।
তারা বলেন, এই দোকানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি চিকিৎসকের ভূমিকা নিয়ে নিজের ইচ্ছেমতো ওষুধ দিয়ে আসছেন। এর আগেও অনেক অভিযোগ উঠলেও কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযুক্ত দোকান মালিক অবশ্য দায় এড়িয়ে দাবি করেছেন, তিনি চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেই ওষুধ দিয়েছেন। তিনি বলেন, চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে লেখা ১০০ পাওয়ারের ওষুধ আমার কাছে ছিল না৷ ২০০ পাওয়ারের ছিল। আমি চিকিৎসকের সঙ্গে এই ব্যাপারে ফোনে কথা বলি। চিকিৎসক আমাকে বলেন, ১০০ পাওয়ারের ওষুধ দিনে দুবার খেতে হবে। ২০০ পাওয়ার একবার খেলেই হবে। সেই মতো আমি সেই ওষুধ তাদেরকে দিয়েছিলাম। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, ফোনে কথা বলার অজুহাতে প্রেসক্রিপশনের ডোজ বদলানোর অধিকার কারোর নেই। দোকান মালিক আমাদের বলতে পারতেন ১০০ পাওয়ারের ওষুধ নেই। তাহলে আমরা তা অন্য দোকান থেকে তা কিনতে পারতাম।
ঘটনার খবর পেয়ে সালানপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ পরিবারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দেয়।
এই প্রসঙ্গে পুলিশের তরফে বলা হয়েছে, অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরে তার ভিত্তিতে তদন্ত হবে। গ্রামবাসীদের দাবি, অবিলম্বে ড্রাগ ইন্সপেক্টর দিয়ে সংশ্লিষ্ট ওষুধের ব্যাচ ও পাওয়ার পরীক্ষা করা হোক এবং দোষীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। যাতে কোনও দোকান মালিক এমন কাজ না করতে পারেন।










