Home / খবর / জেলায় জেলায় / গঙ্গাসাগরে বাড়ছে সমুদ্রভাঙন, রিং বাঁধে স্থায়ী সমাধান খুঁজছে রাজ্য

গঙ্গাসাগরে বাড়ছে সমুদ্রভাঙন, রিং বাঁধে স্থায়ী সমাধান খুঁজছে রাজ্য

উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়: গঙ্গাসাগরে সমুদ্রভাঙন দিন দিন গুরুতর আকার নিচ্ছে। সামনেই গঙ্গাসাগর মেলা, চলছে প্রস্তুতির শেষ দফা। এর মধ্যেই ক্রমাগত পাড় ভেঙে এগিয়ে আসা সমুদ্র নতুন দুশ্চিন্তা তৈরি করেছে। ওয়াকিবহাল মহলের আশঙ্কা, ভাঙন থামানো না গেলে ভবিষ্যতে কপিলমুনি মন্দিরও বিপদের মুখে পড়তে পারে।

এই পরিস্থিতিতে গঙ্গাসাগর-সহ পুরো সুন্দরবনকে রক্ষা করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। বিশেষজ্ঞ প্রযুক্তিবিদদের পরামর্শ নিয়েই এবার সমুদ্রভাঙন ঠেকাতে নেদারল্যান্ডসের প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার নেদারল্যান্ডসের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল কপিলমুনির মন্দিরের সামনে গিয়ে ভাঙন পরিস্থিতি পরিদর্শন করে।

সূত্রের খবর, সমুদ্রকে উপকূলে আঘাত করার আগেই থামাতে রিং বাঁধ তৈরির পরিকল্পনা করছে রাজ্য। প্রস্তাবিত প্রকল্প অনুযায়ী, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১০০ মিটার এবং সমুদ্রগর্ভে আরও ৩০০ মিটার জায়গাজুড়ে কংক্রিটের একটি রিং বাঁধ তৈরি করা হবে। লক্ষ্য—বড় ঢেউগুলিকে উপকূল স্পর্শ করার আগেই দুর্বল করে দেওয়া, যাতে সরাসরি আছড়ে পড়ে ক্ষয়ক্ষতি না বাড়াতে পারে।

বর্তমানে কপিলমুনি মন্দির থেকে সমুদ্র সৈকতের দূরত্ব প্রায় ২০০ মিটার। গত কয়েক বছরে দ্রুত ভাঙনে সঙ্কুচিত হয়েছে সাগরদ্বীপের বহু এলাকা, গঙ্গাসাগর মেলার মাঠও কমেছে আকারে। প্রতি বছর ভাঙন নতুন জায়গায় আঘাত হানায় প্রশাসনের চিন্তা বাড়ছে।

নেদারল্যান্ডসের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সেচ দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক বৈঠক হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্থায়ী সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজ্যের হিসাব অনুযায়ী, ১ থেকে ৬ নম্বর স্নানঘাট পর্যন্ত কংক্রিটের স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে প্রায় একশো কোটি টাকা খরচ হবে এবং কাজ শেষ হতে সময় লাগবে দু’বছর।

গঙ্গাসাগর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান হরিপদ মণ্ডলের বক্তব্য, প্রতি বছর মাটি দিয়ে অস্থায়ী বাঁধ বানানো কোন সমাধান নয়। স্থায়ী কংক্রিটের বাঁধই শেষ ভরসা। সাগরের বিধায়ক এবং সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিম চন্দ্র হাজরাও জানিয়েছেন, গঙ্গাসাগরকে বাঁচাতে সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *