আসানসোল পুরনিগমের সাফাই কর্মীরা শুক্রবার কাজ বন্ধ করে বেতন বৃদ্ধি সহ চার দফার দাবিতে আসানসোল পুরনিগমে বিক্ষোভ দেখান।
বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি সাফাই কর্মীদের দাবির মধ্যে রয়েছে তাদের ছবি সহ পরিচয়পত্র এবং ভবিষ্য নিধি বা প্রভিডেন্ট ফান্ড দেওয়া।
এই সাফাই কর্মীরা দাবি করেছেন যে, এপ্রিল মাস থেকে তাদের নামে ভবিষ্য নিধির টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তা তাদের ভবিষ্য নিধি অ্যাকাউন্টে জমা করা হচ্ছে না। এদিন আসানসোল পুরনিগমে বিক্ষোভকারী সাফাই কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে পুর চেয়ারম্যান অমরনাথ চট্টোপাধ্যায়। তাদের দাবি নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস সাফাই কর্মীদের দিয়েছেন আসানসোল পুরনিগমের মেয়র পারিষদ গুরুদাস চট্টোপাধ্যায়।
তিনি বলেন, সাফাই কর্মীদের দাবিগুলি নিয়ে মেয়রের সঙ্গে কথা বলা হবে। এর আগে সাফাই কর্মীদের দাবি নিয়ে একটি এগ্রিমেন্ট করা হয়েছিল। তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মেয়র পারিষদ বলেন, এদিন সাফাই কর্মীরা কাজ বন্ধ করে ধর্মঘটে ছিলেন। তাই জঞ্জাল ও আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়নি।
এই প্রসঙ্গে, রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন বিজেপির রাজ্য কমিটির নেতা কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়। এদিন এক সাংবাদিক সম্মেলনে কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, আসানসোল পুরনিগম দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। আসানসোল পুরনিগমে এমন একজনও আধিকারিক বা কর্মচারী নেই যিনি দুর্নীতিতে জড়িত নন।
বিজেপি নেতা বলেন, শহর পরিষ্কার রাখার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করা সাফাই কর্মীদের সাথে এই ধরণের প্রতারণা দুর্ভাগ্যজনক। বাংলায় বিজেপি সরকার গঠন করলে, আসানসোল পুরনিগমের সমস্ত দুর্নীতিগ্রস্থ নেতা, আধিকারিক এবং কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি নাম উল্লেখ করে বলেন যে, আসানসোল পুরনিগমে এমন একটিও বিভাগ নেই যা দুর্নীতিমুক্ত। কৃষ্ণেন্দুবাবু বলেন, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার আসানসোল পুরনিগমে কোটি কোটি টাকা পাঠায়। কিন্তু স্থানীয় নেতা এবং দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিকরা টাকা পকেটে ভরে ফেলেন। তবে, দু মাস পরে এমন আর ঘটবে না। এইসব নেতা এবং আধিকারিককে প্রতিটি টাকার হিসাব দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, যখন বিজেপি রাজ্যে সরকার গঠন করবে, তখন এই সাফাই কর্মীরা তাদের দাবি মতো বেতন পাবেন এমনটা নয়, তারা স্থায়ী কর্মচারী হিসেবেও নিয়োগ পাবেন।
যদিও, এই বিজেপি নেতার দাবি ও অভিযোগকে গুরুত্ব দিতে চাননি তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব।










