আসানসোল : পুর চেয়ারম্যান অমরনাথ চট্টোপাধ্যায় ও দুই ডেপুটি মেয়র অভিজিৎ ঘটক এবং ওয়াসিমুল হকের সঙ্গে শনিবার দুপুরে হওয়া বৈঠকে অবশেষে মিলল সমাধান সূত্র। এরপরই ৯ দিনের মাথায় ধর্মঘট তুলে নিয়ে কাজে ফিরলেন আসানসোল পুরনিগমের সাফাইকর্মীরা।
জানা গেছে, এদিন বিকেলে বেশ কিছু এলাকায় সাফাই কর্মীরা আবর্জনা পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছেন। রবিবার সকাল থেকে সাফাই কর্মীরা পূরো মাত্রায় কাজে নামবেন। একমাত্র বেতন বৃদ্ধি বাদে সাফাই কর্মীদের বাকি সব দাবি পুর কর্তৃপক্ষ মেনে নিয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার থেকে একাধিক দাবিতে আসানসোল পুরনিগমের সাফাই কর্মীরা কাজ বন্ধ করে দিয়ে ধর্মঘটে নামেন। এরফলে আসানসোল পুরনিগমের ১০৬টি ওয়ার্ডে সাফাইয়ের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তায় রাস্তার আবর্জনার স্তূপ জমে যায়। এর মধ্যে সাফাইকর্মীরা বেশ কয়েকবার আসানসোল পুরনিগমে এসে বিক্ষোভ দেখান। তিন বিরোধী দল বিজেপি, কংগ্রেস ও সিপিএম সাফাইকর্মীদের দাবির সমর্থন করে রাজ্যের শাসক দল ও আসানসোল পুরনিগমকে আক্রমণ করে।
শনিবার সকালে বিজেপির আসানসোল সাংগঠনিক জেলার তরফে সাফাই কর্মীদের ধর্মঘট নিয়ে আসানসোল পুরনিগম কর্তৃপক্ষকে আক্রমণ করা হয়।
এদিনই আসানসোল পুরনিগমের রানিগঞ্জের ৯১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর রাজু সিং নিজে রাস্তায় নেমে সাফাইয়ের কাজ করেন। শুক্রবার আসানসোলে কংগ্রেসের নেতা ও কর্মীরা রাস্তায় নেমে সাফাইয়ের কাজ করেন। যুব কংগ্রেস নেতৃত্ব শুক্রবার আসানসোল পুরনিগমে বিক্ষোভ দেখাতে এসে স্মারক লিপি মেয়রের চেম্বারের দরজায় সাঁটিয়ে দেন।
এরইমধ্যে আসানসোল পুরনিগমের মেয়র বিধান উপাধ্যায় এক বৈঠকের পরে সরাসরি জানিয়েছিলেন, বেতন বৃদ্ধি এই মুহুর্তে করা সম্ভব নয়। বাকি সব দাবি পুর কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে। তবে তার আগে সাফাই কর্মীদের ধর্মঘট তুলে নিয়ে কাজে ফিরতে হবে। তা, না হলে পুর কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ নেবে। এরপরেই শনিবার দুপুরে সাড়ে বারোটা নাগাদ আসানসোল পুরনিগমে সাফাই কর্মীরা পুর চেয়ারম্যান ও দুই ডেপুটি মেয়রের সঙ্গে বৈঠক করেন।
সেই বৈঠকে পরে পুর চেয়ারম্যান বলেন, দুমাস পরে সাফাই কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির দাবি নিয়ে আলোচনা করা হবে। ইএসআইয়ের বিষয়টি নিয়ে পুর কতৃপক্ষের তরফে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সাফাই কর্মীদের পরিচয় পত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ভবিষ্য নিধি বা প্রভিডেন্ট ফান্ডে টাকা দেওয়া নিয়ে কিছু টেকনিক্যাল সমস্যা রয়েছে। যেসব সাফাই কর্মী এখনো নথি দেননি, তাদেরকে তা দ্রুত দিতে বলা হয়েছে। তাহলে এই সমস্যা দিন কয়েকের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সাফাই কর্মীদের ক্যাজুয়াল করার যে দাবি, তা প্রস্তাব আকারে রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হবে। এই ব্যাপারে, যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার তা রাজ্য সরকার নেবে।









