চুরুলিয়া ( জামুড়িয়া) : পুলিশ প্রশাসনের তরফে বেআইনি ভাবে কয়লা চুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তা মেনে নিতে পারছেনা কয়লা চোরেরা।
খোলামুখ কয়লাখনি থেকে কয়লা চুরি করতে দিতে হবে, এই দাবিতে কয়লা চুরির সঙ্গে জড়িতদের একাংশ পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের জামুড়িয়া থানার চুরুলিয়ায় তান্ডব চালায় বলে অভিযোগ।
শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে এই কয়লা চুরির বিষয়কে কেন্দ্র করে চুরুলিয়ার হাটতলায় দলের অঞ্চল অফিসে হামলা চালিয়ে যথেচ্ছ ভাঙচুর করা হয়।
হামলাকারীদের হাতে আক্রান্ত হয়েছেন চুরুলিয়ার খোলামুখ কয়লাখনি থেকে কয়লা তোলার দায়িত্বে থাকা এক আধিকারিক। তাকে বাঁচাতে গিয়ে হামলাকারীরা মারধর করে তৃণমূল কংগ্রেসের চুরুলিয়া অঞ্চল কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ আসরফকে।
তিনি পালিয়ে গিয়ে কোনওমতে নিজেকে রক্ষা করেন। সবমিলিয়ে ৭ জন এই ঘটনায় জখম হন। আধিকারিকের চারচাকা গাড়ি ও ৫ টি মোটরবাইক ভাঙা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালের এই ঘটনায় গোটা চুরুলিয়ার ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রথমে চুরুলিয়া ফাঁড়ির পুলিশ এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু তারা ব্যর্থ হলে জামুড়িয়া থানা থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে কমব্যাট ফোর্স ও রেফ চুরুলিয়ায় আসে। নিয়ে আসা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও। এরপর বেশ কয়েক ঘন্টার চেষ্টায় পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিয়ে সবকিছু স্বাভাবিক করে। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। চলছে পুলিশের টহলও।
এই ঘটনায় পুলিশ একজনকে আটক করেছে।
স্বাভাবিক ভাবেই বিধানসভা নির্বাচনের আগে চুরুলিয়ার মতো জায়গায় দলের অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও নেতা আক্রান্ত হওয়ায় চরম অস্বস্তিতে তৃণমূল নেতৃত্ব।
এই ঘটনার পেছনে বিরোধী দল বিজেপি ও সিপিএমের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তৃনমূল কংগ্রেসের চুরুলিয়ার অঞ্চল সভাপতি ব্রজনারায়ণ রায়।
তার দাবি, এইসব করে বিরোধী দলগুলি আমাদের দলের বদনাম করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, চুরুলিয়ায় একটি বেসরকারি কোম্পানি কয়লা তোলার কাজ করছে।
সেখান থেকে এলাকারই কিছু লোক নিয়মিত কয়লা চুরি করে। বুধবার পুলিশ প্রশাসনের তরফে কয়লা চুরি বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। তারপরেই এই ঘটনা।
অন্যদিকে, এই ঘটনা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করে তোপ দেগেছেন বিজেপির রাজ্য কমিটির নেতা কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এটাই হওয়ার ছিল। দুধেল গাইদের হাতে আক্রান্ত হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা। কয়লা চুরি করতে দিতে হবে বলে, তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিসে ভাঙচুর করা হয়েছে। এর থেকে প্রমাণিত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের অফিস থেকে কয়লা চুরি নিয়ন্ত্রণ করা হতো। বাংলার মানুষেরা সব দেখছেন ও বুঝতে পারছেন।
জানা গেছে, জামুরিয়া থানার চুরুলিয়ায় খোলামুখ খনি থেকে কয়লা চুরি করতে দিতে হবে, এই দাবি করে এদিন সকালে স্থানীয় ফকির পাড়ার কয়েকজন চুরুলিয়া হাটতলা এসে তৃণমূলের পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালায়। ঘটনার খবর পেয়ে চুরুলিয়া ফাঁড়ির পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু এতো মানুষের ভিড় ছিল, তাই সেই মুহূর্তে পুলিশ পরিস্থিতি সামলাতে পারেনি। এরপরে ব্যাপক হারে পাথর ছোঁড়া হয়। চলে পার্টি অফিসে ভাঙচুর। দলের ঝান্ডা ফেলে দেওয়া হয়। বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ও চারচাকার গাড়ি ভাঙচুর চালানো হয়। সেই সময় সেখান দিয়ে খোলামুখ খনির সাইড ইনচার্জ বিকাশ দত্ত পেরিয়ে যাচ্ছিলেন। তাকে আটকে ব্যাপক মারধর করার পাশাপাশি, তার গাড়িও ভেঙে দেয় হামলাকারীরা।
পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, কয়লা তোলা নিয়ে একটা গন্ডগোল হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছে। বেশ কয়েকজনের আহত হওয়া ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনের আগে কয়লা পাচার মামলা নিয়ে নতুন করে আলোড়ন তৈরি হয়েছে এই আসানসোল দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে। বুধবারই এই মামলার তদন্তে ইডি দুর্গাপুরে বুদবুদ থানার প্রাক্তন ওসি মনোরঞ্জন মন্ডলের বাড়িতে হানা দেয়। তাকে শুক্রবার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেওয়ার জন্য ইডি সমন দিয়েছে। এর আগে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে শুরুতে মনোরঞ্জন মন্ডলের বাড়িতে আসে ইডি। এরমধ্যে তাকে আগে আরও দুবার সিজিও কমপ্লেক্সে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু তিনি যাননি। এমন পরিস্থিতিতে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের তরফে এই শিল্পাঞ্চলে বেআইনি কয়লা চুরি বন্ধ করতে সক্রিয় হয়েছে বলে খবর।
এমন পরিস্থিতিতে চুরুলিয়ার ঘটনা পুলিশ প্রশাসনের চিন্তা কিছুটাও হলেও, বাড়িয়েছে।










