আসানসোলের বিজেপি নেতা কৃষ্ণা প্রসাদের বিরুদ্ধে এক আদিবাসী মহিলাকে হয়রানি এবং তাঁর জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে ও অভিযুক্ত বিজেপি নেতাকে গ্রেফতারের দাবিতে রবিবার তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর শ্যাম সোরেনের নেতৃত্বে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষেরা বিক্ষোভ মিছিল করে আসানসোল উত্তর থানায় আসেন। তারা থানা ঘেরাও করেন।
শ্যাম সোরেন এই প্রসঙ্গে বলেন, আসানসোল উত্তর থানার আসানসোল পুরনিগমের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে শালডাঙা এলাকায় বিজেপি নেতা কৃষ্ণ প্রসাদ এক আদিবাসী মহিলাকে লাঞ্ছিত করেছেন। তার জমি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গত ১৯ জানুয়ারি ওই মহিলা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আসানসোল উত্তর থানায়। তার পরেও অভিযুক্তকে গ্রেফতার না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে আদিবাসীরা এদিন থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান।
বিক্ষোভ মিছিলে বেশ কয়েকজন আদিবাসী মহিলা ঐতিহ্যবাহী অস্ত্র নিয়ে থানায় আসেন। স্বাভাবিক ভাবেই আদিবাসীদের এই বিক্ষোভে এলাকায় উত্তেজনা দেখা যায়। বিক্ষোভকারীদের একটিই দাবি, বিজেপি নেতা কৃষ্ণা প্রসাদকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।
অন্যদিকে, বিজেপি নেতা কৃষ্ণা প্রসাদ তার বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন যে, এই পুরো বিষয়টি তৃণমূল কংগ্রেসের ষড়যন্ত্র এবং তাকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি তার বক্তব্যে দাবি করেন, আসানসোল উত্তর বিধানসভার বিধায়ক তথা রাজ্যের আইন ও শ্রম মন্ত্রী মলয় ঘটক চক্রান্ত করে তাকে ফাঁসাতে চাইছেন।
তিনি আরও বলেন, আমি সর্বদাই আদিবাসীদের সঙ্গে ছিলাম, আছি ও থাকবো। আর কম্বল বিতরণের সময় সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ আমার কাছে রয়েছে। তা দেখলেই সমস্ত বিষয় স্পষ্ট হয়ে যাবে। আর তার বিরুদ্ধে তৃণমূল কোনরূপ কোনও চক্রান্ত করলে সাধারণ মানুষ তার জবাব দেবে বলেই দাবি বিজেপি নেতার।
এদিনের আদিবাসীদের বিক্ষোভ ঘিরে কোনও ঘটনা না ঘটে, তারজন্য আসানসোল উত্তর থানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, গোটা বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। সেই তদন্ত শেষ হলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।










