আসানসোল : আসানসোলের পোলো গ্রাউন্ডে বৃহস্পতিবার বিজয় সংকল্প সভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মা কল্যাণেশ্বরী ও মা ঘাঘর বুড়িকে প্রণাম জানিয়ে বক্তব্য শুরু করে তিনি। তিনি বলেন, গোটা বাংলা আজ পরিবর্তনের জন্য ছটফট করছে। তার ভাষণে বারবার উঠে আসে আসানসোলের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার এবং সিন্ডিকেট-মুক্ত বাংলার কথা।
আসানসোলের গরিমা ফেরানোর লড়াইয়ের কথা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপের সুরে বলেন, আসানসোল একসময় সাইকেল, কাচ, অ্যালুমিনিয়াম ও কয়লা খনির জন্য বিখ্যাত ছিল। সারা দেশের যুবকরা এখানে কর্মসংস্থানের খোঁজে আসতেন। কিন্তু আজ সেই চাকা থমকে গেছে। তাঁর প্রতিশ্রুতি, বিজেপি সরকার আসানসোলকে তার হারানো গরিমা ফিরিয়ে দেবে। কয়লা ও বালি মাফিয়াদের হাত থেকে এই অঞ্চলকে মুক্ত করা হবে। শিল্পাঞ্চলের বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু করার দিশা দেখাবে বিজেপি।
তৃণমূলকে সরাসরি তোপ দেগে মোদি বলেন, “গোটা দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তৃণমূল তখন বাংলাকে পেছনের দিকে ঠেলছে।” তার অভিযোগ, বাংলার আয় ১০০ শতাংশের ১২ শতাংশ থেকে আজ ৫ শতাংশে নেমে এসেছে কংগ্রেস, বাম ও তৃণমূলের কুশাসনে। বাংলার সাধারণ মানুষের হক লুট করে শাসকদলের মন্ত্রীদের বড় বড় বাংলো তৈরি হচ্ছে।
আসানসোলের কয়লা অঞ্চল আজ সিন্ডিকেটের কবজায়। এই লুটেরাদের হিসাব এবার জনতা নেবে।
আসানসোল-দুর্গাপুর ‘মেগা সিটি’ করার কথা বলে
বিকাশের রোডম্যাপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের খতিয়ান দেন। তিনি বলেন, এবার হবে বিকাশের ডবল ইঞ্জিন। ৪৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ, গ্যাস পাইপলাইন কানেক্টিভিটি এবং বন্দে ভারত ট্রেনের সুবিধা। অমৃত ভারত প্রকল্পের অধীনে আসানসোল স্টেশনের আধুনিকীকরণ এবং ইএসআই হাসপাতালকে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজে রূপান্তর করা হচ্ছে।
আসানসোল ও দুর্গাপুরকে মিলিয়ে একটি ‘মেগা সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রের।
মালদহে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনার নিন্দা করে তিনি বলেন, তৃণমূল জঙ্গলরাজ কায়েম করেছে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে গালি দিচ্ছে। ৪ মে-র পর বাংলায় বিজেপি সরকার আসার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, “এবার গুণ্ডাদের হিসাব হবে এবং রাজ্যে কাটমানি খেলা বন্ধ হবে।”
“পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার”, এই স্লোগান তুলে প্রধানমন্ত্রী ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর দাবি, এই ভোট শুধু সরকার বদলানোর জন্য নয়, বরং বাংলার নিরাপত্তা এবং শিল্পাঞ্চলের সমৃদ্ধি ফেরানোর লড়াই। বাংলায় এবার সব কা সাথ সবকা বিকাশ তো হবেই, তবে বাংলার অনিষ্টকারী লুটেরাদেরও হিসাব হবে।










