আসানসোল : নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আসানসোল পুরনিগমের প্রাক্তন মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারি আসানসোলের রবীন্দ্র ভবন প্রাঙ্গণে অবস্থিত আজাদ হিন্দ ফৌজের শহিদদের স্মৃতিতে নির্মিত স্মারকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এদিন তিনি নেতাজি ও আজাদ হিন্দ ফৌজের বীর শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। নেতাজির জন্মজয়ন্তীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্মারকে কেউ উপস্থিত না থাকার বিষয়টি নিয়ে তিনি দুঃখ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেন।
জিতেন্দ্র তিওয়ারি তাঁর বক্তব্যে বলেন, সিঙ্গাপুরে আজাদ হিন্দ ফৌজের শহিদদের স্মরণে নির্মিত ঐতিহাসিক স্মারকটি একসময় ব্রিটিশ শাসকদের দ্বারা ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নেতৃত্বেই আজাদ হিন্দ সরকার গঠিত হয়েছিল এবং তাঁকে স্বাধীন ভারতের একটি অংশের হলেও দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গণ্য করা হয়। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে আজাদ হিন্দ ফৌজ ও নেতাজির ভূমিকা চিরস্মরণীয়
তিনি আরও জানান, ২০১৭ সালে তিনি যখন আসানসোল পুরনিগমের মেয়র পদে ছিলেন, তখন নেতাজির অনুগামী ও শুভানুধ্যায়ীদের অনুরোধে সিঙ্গাপুরের স্মারকের আদলে রবীন্দ্র ভবন প্রাঙ্গণে এই আজাদ হিন্দ ফৌজ স্মারকটি নির্মাণ করা হয়। এই স্মারকে নেতাজির নেতৃত্বে গঠিত আজাদ হিন্দ সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের নামও উৎকীর্ণ রয়েছে, যা ইতিহাস ও ত্যাগের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে।
জিতেন্দ্র তিওয়ারি বলেন, আজ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মজয়ন্তী হলেও সকাল প্রায় ১১টা পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে কেউ এখানে শ্রদ্ধা জানাতে আসেননি—এই খবর পেয়েই তিনি নিজে স্মারকে উপস্থিত হন। তিনি মনে করেন, নেতাজির মতো মহান বিপ্লবী ও দেশনায়কের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং জাতির দায়িত্ব।
তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, তিনি বর্তমান প্রশাসনের সমালোচনা করতে চান না। বরং তাঁর অনুরোধ, ভবিষ্যতে যেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও আজাদ হিন্দ ফৌজের শহিদদের যথাযোগ্য সম্মান দেওয়া হয়। তাঁদের আত্মত্যাগ ও আদর্শ স্মরণ করে নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, সাহস ও আত্মনিবেদনের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করাই হোক সকলের লক্ষ্য—এই বার্তাই এদিন তিনি তুলে ধরেন।










