অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: দেশভাগের পরে শহর লাগোয়া জঙ্গলাকীর্ণ, স্বল্প জন বসতিযুক্ত পাতকাটা এলাকায় ও পার বাংলা থেকে বেশ কয়েকটি পরিবার ঠাঁই নেয়। সেই পরিবার গুলির শিশুদের পড়াশোনার জন্য জমি দিয়েছিলেন স্থানীয় রবি রায়। অংসঠিতভাবে চলা ওই প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি অনুমোদন পায় ১৯৫১ সালে। সেই পাতকাটা আরআর প্রাথমিক বিদ্যালয় পদার্পণ করল ৭৫ তম বর্ষে।
১৯৪৭ সালে স্থানীয় রবি রায়ের গোয়ালঘরের পাশে প্রাথমিক ভাবে এই স্কুলে পঠনপাঠন শুরু হয়। সে সময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন অম্বিকাচরণ বিশ্বাস, মণি অধিকারী, প্রফুল্ল চক্রবর্তী-সহ স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা। সে সময় সন্ধ্যায় সঙ্গীতচর্চা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন তাঁরা। পরে আরও অনেক পরিবার উদ্বাস্তু হয়ে এখানে আসায় ধীরে কলেবর বাড়ে এই স্কুলের। ১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সরকারি অনুমোদন পায় স্কুলটি। শহর লাগোয়া এই এলাকায় শিক্ষা ও সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে পাতকাটা আরআর প্রাথমিক স্কুল। বর্তমানে এই স্কুলে চলছে চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রস্তুতি। বর্তমানে এই স্কুলে শিক্ষক শিক্ষিকা রয়েছেন ৫ জন, পড়ুয়ার সংখ্যা ১১২। পাতকাটা কলোনি ছাড়াও লাগোয়া চা বাগান এলাকার অনেক ছেলেমেয়ে এখানে পড়তে আসে।

স্মরজিৎ চাকি, প্রধান শিক্ষক, পাতকাটা আরআর প্রা. স্কুল
৭৫তম বর্ষে একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কী কী অনুষ্ঠান হবে তা তুলে ধরলেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক স্মরজিৎ চাকি। তিনি বলেন, “এ বছরের জানুয়ারি থেকে আমাদের কর্মসূচি শুরু হয়। ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-সহ একাধিক অনুষ্ঠান হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে তিন দিন ধরে সমাপ্তি অনুষ্ঠান হবে। বহিরাগত শিল্পীদের পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পীরাও অংশ নেবেন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে। ১ জানুয়ারি আতশবাজির প্রদর্শনীও হবে।”










