আসানসোল :
বিজেপির রাজ্য নেতা কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় এবারেও দলের টিকিটে আসানসোল উত্তর থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তার লড়াই ২০২১ সালের মতো রাজ্যের মন্ত্রী মলয় ঘটকের সঙ্গে
বুধবার সকালে দলের কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে আসানসোলের জিটি রোডের বস্তিন বাজার দুর্গা মন্দিরে আসেন। পরে তিনি নিজে মন্দিরের দরজা খুলে পুজো দেন। তাঁর সঙ্গে থাকা বিজেপি সমর্থকদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।
প্রসঙ্গত, বস্তিন বাজার দুর্গা মন্দিরের একটা ইতিহাস আছে। যা অনেকটাই বিতর্কিত। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্বেও পুলিশ প্রশাসন এই মন্দিরে সারা বছর নিত্য পুজো করতে দেয়না বলে অভিযোগ এলাকার বাসিন্দাদের। তাদের দাবি, বিশেষ এক সম্প্রদায়ের চাপে এটা করা হচ্ছে। শুধু দুর্গাপুজোর কটাদিন এই মন্দিরের দরজা খোলা হয়।
ভোটের প্রচারে বেরিয়ে বিজেপি প্রার্থী সেই বন্ধ দরজা খুলে মন্দিরে ঢুকে পুজো দেন।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, বস্তিন বাজারের এই মন্দিরের সাত দশকের বেশী সময় ধরে পুজো হয়ে আসছে। এর একটা আলাদা ঐতিহ্য আছে। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন একটা রাজনৈতিক দল ও সম্প্রদায়ের চাপে সারা বছর পুজো করতে দেয়না। শুধু মাত্র দুর্গাপূজোর কটা দিন ছাড়া।
এদিন আমি মন্দিরের বন্ধ দরজা খুলে পুজো দিয়েছি। নির্বাচনে জিতে বিধায়ক হয়ে এই মন্দিরে সারা বছর নিত্য দিন পুজোর ব্যবস্থা করবো। তিনি আরও বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বে গত ১৫ বছরে পশ্চিমবঙ্গ, পশ্চিম বর্ধমান জেলা এবং আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে কোনও উন্নয়ন হয়নি। আসানসোল একটি বৃদ্ধাশ্রমে পরিণত হয়েছে। এখানকার যুবকদের কর্মসংস্থানের অভাবে তারা উচ্চশিক্ষা ও কাজের জন্য আসানসোল ছেড়ে চলে যাচ্ছে। তাদের বাবা-মা একা থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।
এছাড়াও, তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত প্রশাসনের ব্যর্থতা ও অবহেলার কারণে সারা আসানসোল জুড়ে যানজট একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু প্রশাসন এই সমস্যার সমাধানে উদাসীন থাকছে।
আসানসোল উত্তরের বিধায়ক তথা এবারের তৃণমূল প্রার্থী মলয় ঘটকের কার্যপদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় । তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে তাঁর নির্বাচনী এলাকায় কোনও উন্নয়ন হয়নি। অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে মহিলাদের জন্য শৌচাগার পর্যন্ত নেই। তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার ও আসানসোল পুরনিগম এখানকার পানীয় জলের সমস্যারও সমাধান করতে পারেনি। তাই এখন আসানসোলের মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসের হাত থেকে মুক্তি চাইছেন।










