উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, জয়নগর : সুন্দরবনের কৃষকদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে চলেছে নিমপীঠ রামকৃষ্ণ আশ্রমের কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র। চাষিদের আয় বৃদ্ধি ও বিকল্প কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে এবার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে এই কেন্দ্র। মধু উৎপাদনের পাশাপাশি মৌচাক থেকে প্রাপ্ত মোমের সর্বোত্তম ব্যবহার করে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে মোমবাতি তৈরির পথ দেখাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।
কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের উদ্যোগে মৌচাষের মাধ্যমে প্রাকৃতিক নিয়মে মধু সংগ্রহের পাশাপাশি সেই মধু থেকে পাওয়া মোম দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ও নানা রঙের মোমবাতি তৈরি করা হচ্ছে। সংস্থার দাবি, বাজারে মধুর যেমন ভালো চাহিদা রয়েছে, তেমনই প্রাকৃতিক মোম দিয়ে তৈরি মোমবাতিরও যথেষ্ট বাজার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ বিষয়ে নিমপীঠ রামকৃষ্ণ আশ্রমের কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের প্রধান ও বরিষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. চন্দন কুমার মণ্ডল জানান, “আমরা ফুলের পরাগ মিলনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে মধু উৎপাদন করি। এবার মধুর পাশাপাশি মোমের ব্যবহার বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এই মোম দিয়ে মোমবাতি তৈরি করে বিক্রি করলে এলাকার মানুষ, বিশেষ করে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা সহজেই স্বাবলম্বী হতে পারবেন।”
তিনি আরও জানান, প্রাকৃতিক মোম দিয়ে তৈরি এই মোমবাতি পরিবেশবান্ধব এবং এতে পরিবেশের কোনও ক্ষতি হয় না। পাশাপাশি এটি সুন্দরবনের মানুষের জন্য একটি বিকল্প আয়ের পথ খুলে দেবে। এই উদ্যোগ সফল হলে আগামী দিনে আরও বেশি মানুষ প্রাকৃতিক উপায়ে মোমবাতি তৈরি করে স্বনির্ভর হওয়ার সুযোগ পাবেন বলেই আশাবাদী কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র।










