সালানপুর ব্লকের হিন্দুস্তান কেবলস এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে খনিজ পদার্থ সমৃদ্ধ মাটি কেটে পাচারের অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, জেসিবি মেশিন ব্যবহার করে মোরাম মাটি কেটে ট্রাকে ভরে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে নির্বিঘ্নে।
এই দৃশ্য সামনে এসেছে হিন্দুস্তান কেবলসের লোয়ার কেশিয়া থেকে অজয় নদ পর্যন্ত ফাঁকা পড়ে থাকা অঞ্চলে। একসময় এখান থেকেই সাদা পাথর পাচারের ঘটনায় এলাকাটি শিরোনামে উঠে এসেছিল। শনিবার, ৪ জানুয়ারি সকাল থেকেই ওই এলাকায় সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে মাটি ভরার কাজ চলতে দেখা যায়।
এলাকাটি হিন্দুস্তান কেবলস কর্তৃপক্ষের আওতাধীন হওয়ায় স্থানীয় জিতপুর-উত্তররামপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এই বিষয়ে কার্যত নীরব বলেই অভিযোগ। অন্যদিকে সালানপুর ব্লকের ভূমি ও ভূমি রাজস্ব আধিকারিক (বিএলএলআরও) সুমন সরকার জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। রবিবার হওয়ায় দফতরের কর্মীরা উপস্থিত না থাকলেও দ্রুত প্রশাসনিক সহযোগিতা নিয়ে এলাকায় সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
এদিকে রূপনারায়ণপুর পুলিশ ফাঁড়ি সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে তারাও উদ্বিগ্ন। বিএলএলআরও দফতরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
হিন্দুস্তান কেবলস কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, তারা এই পাচারের ঘটনা সম্পর্কে অবগত হলেও তা আটকাতে কার্যত অসহায়। অতীতে পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক ও আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারকে ইমেল করে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। এমনকি নিরাপত্তা রক্ষী মোতায়েনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়, যার আর্থিক দায়ভার বহনে রাজি ছিল কেবলস কর্তৃপক্ষ। তবে প্রশাসনের তরফে কোনও কার্যকর সাড়া মেলেনি বলে অভিযোগ।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন একাধিক নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিনিধিরা জমি পরিদর্শনে এসে এই চুরির বিষয়টি নথিভুক্ত করলেও বাস্তবে পাচার বন্ধ হয়নি। লোয়ার কেশিয়া থেকে অজয় নদ এবং জিতপুর-রামপুর থেকে চিত্তরঞ্জন রেল শহরের পথে প্রতিদিন এই দৃশ্য দেখে ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর।
সমাজ সচেতন মানুষের দাবি, প্রাকৃতিক সম্পদের এই লুট অবিলম্বে বন্ধ করতে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। নচেৎ একদিকে যেমন এলাকার ভূপ্রকৃতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তেমনই ভবিষ্যতে শিল্প ও উন্নয়নের সম্ভাবনাও ধ্বংস হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তাঁরা।










