অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: তীব্র ক্লাসরুম সংকটে পড়েছে জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের বাংলাদেশ লাগোয়া মানিকগঞ্জ বিএফপি স্কুল। প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ছ’টি শ্রেণির প্রায় পৌনে দু’শো পড়ুয়ার জন্য রয়েছে মাত্র তিনটি ক্লাসঘর। ফলে একই ঘরে একসঙ্গে দু’টি ক্লাস চালাতে হচ্ছে। বসার জায়গার অভাবের কারণে আসন্ন শিক্ষাবর্ষে বহু অভিভাবকই শিশুদের ভর্তি করতে অনীহা প্রকাশ করছেন বলে অভিযোগ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের।
স্বাধীনতার আগেই, ১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্কুলটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আশপাশে বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল গড়ে উঠলেও এখনও বহু অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের এই স্কুলেই ভর্তি করান। বিভিন্ন সময়ে ‘নির্মল বিদ্যালয়’, ‘শিশুমিত্র’-সহ একাধিক পুরস্কার পেয়েছে এই প্রতিষ্ঠান। রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষক নৃপতি ভূষণ রায় এই স্কুলেরই প্রাক্তন শিক্ষক। স্কুলে স্মার্ট ক্লাসের ব্যবস্থাও রয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত অঙ্কন, যোগ, নাটকসহ বিভিন্ন সহপাঠক্রমিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
তবে পরিকাঠামোর বেহাল দশা চিন্তায় ফেলেছে স্কুল কর্তৃপক্ষকে। সহ-শিক্ষক দীপঙ্কর বসু বিশ্বাস জানান, ডাইনিং হল নেই, একাধিক ক্লাসরুমের অভাব রয়েছে এবং একটি ঘরের টিনের চালও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সমস্যা আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা। বর্তমানে স্কুলে ১৭৫ জন পড়ুয়া এবং ৭ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। পড়ুয়ার সংখ্যা বাড়াতে এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার ও বৈঠক করছেন শিক্ষকরা, কিন্তু পরিকাঠামোর সীমাবদ্ধতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রধান শিক্ষিকা পপি সরকার বলেন, ক্লাসঘরের অভাবে পরীক্ষাও দু’টি শিফটে নিতে হয়। আগের গ্রান্টে শুধু শৌচালয়ের কাজ করা সম্ভব হয়েছে। পরিকাঠামোগত দুরবস্থার কারণেই অভিভাবকেরা সন্তানদের ভর্তি করতে চাইছেন না। বিষয়টি বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

লৈক্ষ্যমোহন রায়, চেয়ারম্যান, ডিপিএসসি
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান লৈক্ষ্যমোহন রায় জানান, শুধু মানিকগঞ্জ বিএফপি স্কুল নয়, যেসব স্কুলে এবার পঞ্চম শ্রেণি চালু হচ্ছে, সেগুলির পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। পাশাপাশি জেলার অন্যান্য প্রাথমিক স্কুলেও আবেদনের ভিত্তিতে উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে। প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।










