অমল মাজি, দুর্গাপুর : তালিবান শাসনে আফগানিস্তানে ক্রীড়ার উপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা নেমে আসায় বদলে গিয়েছে বহু ক্রীড়াবিদের জীবন। তারই এক বাস্তব উদাহরণ শামশাদ বেহবুদ। একসময় যিনি আফগানিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৬ জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে মাঠ কাঁপিয়েছিলেন, আজ তিনি জীবিকার তাগিদে দুর্গাপুরের বাণিজ্য মেলায় স্টল দিয়ে শুকনো ফল বিক্রি করছেন।
জালালাবাদের বাসিন্দা শামশাদ ছিলেন একজন প্রতিভাবান ফুটবলার। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক স্তরে খেলার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। কিন্তু ২০২১ সালে তালিবান ক্ষমতায় আসার পর আফগানিস্তানে ক্রীড়াক্ষেত্রে কড়াকড়ি শুরু হয়। বিশেষ করে ফুটবলের উপর নানা নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় তাঁর মতো বহু খেলোয়াড়ের পক্ষে আর পেশাদার ক্রীড়া চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
শামশাদের বাবা আসাদুল্লাহ বেহবুদ ছিলেন আফগান পুলিশের কর্মী। তালিবান আমলে নিরাপত্তাহীনতার কারণে তাঁকেও পরিবারসহ দেশ ছাড়তে হয়। সেই পরিস্থিতিতেই শামশাদ ভারতে চলে আসেন নতুন জীবনের সন্ধানে।
বর্তমানে তিনি দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের বাণিজ্য মেলায় পেস্তা, কাঠবাদাম, আখরোট, কিশমিশ-সহ বিভিন্ন শুকনো ফল বিক্রি করছেন। সপ্তাহের সাত দিনই তাঁকে কাজ করতে হয় জীবিকা নির্বাহের জন্য। তাঁর মামাতো ভাই নূর খানের সঙ্গে যৌথভাবে এই ব্যবসা চালাচ্ছেন তিনি। আফগানিস্তান থেকেই এই শুকনো ফল আমদানি করা হয়।
শামশাদ আক্ষেপের সুরে বলেন, “এক সময় আফগানিস্তানের জার্সি গায়ে ফুটবল খেলতাম। আজ ফল বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছি। জীবন এক মুহূর্তে বদলে গিয়েছে।”
তিনি জানান, ভারতে আসার পর দিল্লির একটি ফুটবল অ্যাকাডেমিতে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু কাজের চাপ ও যাতায়াতের সমস্যার কারণে নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা আজও অটুট থাকলেও বাস্তবতার কাছে হার মানতে হয়েছে শামশাদকে। তাঁর কথায়, “এখন বল লাথি মারার চেয়ে জীবনের জন্য ফল বিক্রি করাই বেশি জরুরি।”










