উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, গঙ্গাসাগর : এবছরের গঙ্গাসাগর মেলায় বিশেষভাবে নজর কাড়ছেন কিন্নর সাধু–সন্ন্যাসীরা। নাগা সাধুদের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রথম গঙ্গাসাগরে নিজস্ব আখড়া পেয়ে উপস্থিত হয়েছেন কিন্নর সাধুদের একটি দল, আর প্রথম বছরেই তাঁরা হয়ে উঠেছেন মেলার অন্যতম আকর্ষণ। তাঁদের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন ‘তলোয়ার রানি’ তানিশা।
সাধারণত গঙ্গাসাগরে নাগা সাধুদের দর্শন মিললেও এ বছর দৃশ্যটা একেবারেই আলাদা। লাল শাড়ি বা গেরুয়া বসন পরা কিন্নর সাধু–সন্ন্যাসীরা, গলায় ও হাতে রুদ্রাক্ষের মালা, কপালে বড় লাল টিপ, হাতে ত্রিশূল ও ডমরু—এই অনন্য রূপই কৌতূহল টানছে পুণ্যার্থীদের। তাঁদের দেখতে মন্দির চত্বরে ভিড় জমছে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত।
এই কিন্নর সাধুদের দলে রয়েছেন মোট ১৫ জন। নেতৃত্ব দিচ্ছেন গায়ত্রী নন্দ গিরি নামে এক কিন্নর সাধু। সারা বছর তাঁরা উজ্জয়িনী, বারাণসী, প্রয়াগরাজের মতো বিভিন্ন তীর্থক্ষেত্রে ঘুরে বেড়ান। এ বছর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তাঁরা গঙ্গাসাগরে এসেছেন।
আগেও কয়েকবার গঙ্গাসাগরে এলেও আখড়া না পাওয়ায় মকর সংক্রান্তির স্নানের পর মেলা প্রদক্ষিণ করেই ফিরে যেতে হত তাঁদের। সমুদ্রতীরে এক রাত কাটিয়ে চলে যেতে হওয়ায় হতাশ ছিলেন কিন্নর সাধুরা। সেই কারণে মাঝখানে প্রায় তিন বছর গঙ্গাসাগরে আসেননি তাঁরা। তবে এ বার দীর্ঘ চেষ্টা চালিয়ে আখড়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পেরেছেন, যা তাঁদের কাছে অত্যন্ত গর্বের ও আনন্দের বিষয়।
মেলার ব্যবস্থাপনা নিয়েও খুশি কিন্নর সাধু–সন্ন্যাসীরা। তানিশা, রিমঝিম, চারুলতার মতো কিন্নর সাধুরা জানান, এবছর গঙ্গাসাগরের আয়োজন তাঁদের মুগ্ধ করেছে। প্রথমবার আখড়া পেয়ে গঙ্গাসাগরে তাঁদের উপস্থিতি মেলায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলেই মনে করছেন পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীরা।










