অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসে জলপাইগুড়ির ‘প্রথম স্বাধীনতা-শহিদ’ বীরেন্দ্রনাথ দত্তগুপ্তকে স্মরণ করলেন শহরবাসী। আলিপুর ষড়যন্ত্র মামলার তদন্তকারী ডিএসপি শামসুল আলমকে হত্যার দায়ে ১৯১০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ফাঁসি হয় জলপাইগুড়ি জেলাস্কুলের এই প্রাক্তন ছাত্রের।
শনিবার সকালে জেলা পরিষদ চত্বরে থাকা বীর বিপ্লবীর আবক্ষ মূর্তির সামনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বীরেন্দ্রনাথ দত্তগুপ্ত স্মৃতিরক্ষা সমিতি। একাধিক সংগঠনও এ দিন বীর বিপ্লবীকে শ্রদ্ধা জানায়।অধুনা বাংলাদেশের ঢাকার বিক্রমপুরে ১৮৮৯ সালের ২০ জুন জন্ম হয় বীরেন্দ্রনাথ দত্তগুপ্তের। পরে দিদির বাড়িতে থেকে জলপাইগুড়ি জিলা স্কুলে পড়াশোনা করেন তিনি। পরবর্তীতে কলকাতা চলে যান। বাঘাযতীনের শিষ্য হিসেবে বিপ্লবী কমকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। আলিপুর ষড়যন্ত্র মামলার তদন্তকারী অফিসার ডিএসপি শামসুল আলমকে হত্যা করেন বীরেন্দ্রনাথ। ১৯১০ সালের ২১ফেব্রুয়ারি আলিপুর প্রেসিডেন্সি জেলে তাঁর ফাঁসি হয়।
এ দিন সকালে জেলা পরিষদ চত্বরে থাকা বীর বিপ্লবীর আবক্ষ মূর্তির সামনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বীরেন্দ্রনাথ দত্তগুপ্ত স্মৃতিরক্ষা সমিতি। বিপ্লবীর মূর্তিতে মাল্যদান ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান জেলা পরিষদের সভাধিপতি কৃষ্ণা রায় বর্মণ, প্রাক্তন বিধায়ক গোবিন্দ রায়, সমিতির পদাধিকারী চিকিৎসক পান্থ দাশগুপ্ত সহ অন্যরা। পরে সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অভিমুখ ও শিক্ষক দিবস উদযাপন কমিটির তরফে প্রশান্ত চৌধুরী, গণেশ ঘোষ, কবি পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অন্যরাও শ্রদ্ধা জানান।
সভাধিপতি কৃষ্ণা রায়বর্মণ বলেন, “বীর বিপ্লবীকে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি জেলা পরিষদ চত্বরে থাকা অন্য মনীষীদেরও সম্মান জানালাম। আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসও আমরা পালন করলাম।”
বীরেন্দ্রনাথ দত্তগুপ্ত স্মৃতিরক্ষা সমিতির বর্ষীয়ান সদস্য তথা প্রাক্তন বিধায়ক গোবিন্দ রায় বলেন, “স্বাধীনতা আন্দোলনে জলপাইগুড়িও পিছিয়ে ছিল না। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে আমাদের শহর ও জেলারও প্রচুর অবদান রয়েছে। আজ এই বীর বিপ্লবীর আত্মবলিদান দিবস আমরা পালন করলাম।”










