অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: ওদের চাওয়া-পাওয়া, মনখারাপের মুহূর্তগুলিকে ফুটিয়ে তোলার মাধ্যম এটিই। এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সরকারি কোরক হোমের আবাসিকদের লেখা সম্বলিত বার্ষিক পত্রিকা ‘কোরক’ প্রকাশিত হল শিশু দিবসে। শুক্রবার বিকেলের এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হাজির রইলেন সরকারি আধিকারিক-সহ অন্যরা। দুপুরের মেনুতেও এ দিন রইল বৈচিত্র্য। নাচ, গান, আবৃত্তিতে অংশ নিল হোমের কচিকাঁচারা।

কেউ অনাথ, কারও মা, বাবা থেকেও নেই। দীর্ঘ সময় ধরে এই হোমকেই নিজেদের বাড়ি মনে করে এসেছে আবাসিকরা। আকাশে শরতের রেখা দেখলেই তারা হাত লাগায় দুর্গামূর্তি তৈরিতে। একেক বার একেক আঙ্গিকে প্রতিমা তৈরি করে তারা। মণ্ডপসজ্জার কাজেও হাত লাগান তারা। কালীপুজোয় পাহাড়ও তৈরি করে জনাকয়েক উৎসাহী। হয় ভাইফোঁটাও। অন্য হোমের আবাসিকারা এসে ভাইফোঁটা দিয়ে যায়। রাখীবন্ধনও হয় ঘটা করে। বাকি দিনগুলিতে নিয়ম আর বিধিনিষেধের বেড়াজাল। কোথাও কি নিঃসঙ্গতা গ্রাস করে অবচেতনে?
এক আবাসিক বলে, “কখনও-সখনও মনখারাপ হয় তো। তবে, সুপার স্যার আর বাকি সবাই আমাদের খুব খেয়াল রাখেন। কোনও আবদার করলে পূরণ করেন।”
শুধু এই জেলা বা রাজ্যের নয়, এই হোমে রয়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্থান, মায়ানমার-সহ ভিন দেশের আাবাসিকেরাও। তারাও সম্পৃক্ত হয়ে উঠেছে বাংলার সংস্কৃতিতে। বর্তমানে এই হোমে মোট ৮৯ আবাসিক রয়েছে। এদিন হোমের মূল ভবনের হলঘরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন জেলা শিশু ও সমাজকল্যাণ আধিকারিক নীলাঞ্জন মুখোপাধ্যায়, ডালসা-র সম্পাদক অনুপম সরকার, অনুভব হোমের কো-অর্ডিনেটর দীপশ্রী রায়, ডালিয়া মিত্র প্রমুখ।
হোম সুপার গৌতম দাস বলেন, “আমরা চাই, এখানে থাকা শিশুদের সর্বাঙ্গীন বিকাশ হোক। যার যে দিকে আগ্রহ রয়েছে, সেই জায়গা গুলিতে আমরা নজর দিই। ওরা নিজেরাই এগিয়ে এসে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এবার আমাদের কোরক পত্রিকার অষ্টম সংখ্যার প্রকাশ হল। হোমের বাচ্চারাই এতে লিখেছে। ওদের আঁকাও রয়েছে।”

গৌতম দাস, সুপার, কোরক হোম
এ দিনের অনুষ্ঠানে অনুভব হোমের আবাসিকারাও অংশ নেয়। গান ও স্ব রচিত কবিতা পাঠ করে শোনায় কোরক হোমের আবাসিকেরা। এ দিন শিশু দিবস উপলক্ষ্যে দুপুরের মেনুতে ছিল ফ্রায়েড রাইস, চিলি চিকেন, পাপড়, চাটনি, মিষ্টি।










