‘হর হর মহাদেব’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠল শিলিগুড়ির মাটিগাড়া। শুভ তিথি মেনে শুক্রবার লক্ষ্মী টাউনশিপ এলাকায় মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মন্দির শিলিগুড়ির পর্যটন মানচিত্রকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলেই আশা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে ঘোষণা করেন, আগামী দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যেই মন্দির নির্মাণের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
মাটিগাড়ার লক্ষ্মী টাউনশিপ এলাকায় মোট ১৭.৪১ একর জমির উপর এই বিশাল মহাকাল মন্দির গড়ে উঠবে। ট্রাস্টের উদ্যোগেই মন্দির নির্মাণের কাজ হবে। শিলান্যাস অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মন্দির কমপ্লেক্সের পরিকাঠামো ও পরিকল্পনার বিস্তারিত বিবরণ দেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, মূল মন্দিরের পাশাপাশি এখানে থাকবে বিশ্বের উচ্চতম মহাকাল মূর্তি। মূর্তির মোট উচ্চতা হবে ২১৬ ফুট, যার মধ্যে ১০৮ ফুট উচ্চতার ব্রোঞ্জের মূর্তি থাকবে ১০৮ ফুটের ভিত্তির উপর। রাস্তা থেকেই এই মন্দির দেখা যাবে এবং প্রতিদিন কমপক্ষে এক লক্ষ দর্শনার্থী মন্দিরে প্রবেশ করতে পারবেন। মন্দির চত্বরে থাকবে মহাকাল মিউজিয়াম ও একটি সাংস্কৃতিক হল।
মন্দিরের পূর্ব ও পশ্চিম দিকে থাকবে দুটি নন্দীগৃহ। সীমানা বরাবর তৈরি হবে ১২টি অভিষেক লিঙ্গ মন্দির, যেখানে সারা ভারতের ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গের প্রতিরূপ রাখা হবে। দুটি প্রদক্ষিণ পথে একসঙ্গে প্রায় ১০ হাজার ভক্ত চলাচল করতে পারবেন। মন্দিরের চার কোণে চার দেবতার অধিষ্ঠান থাকবে— দক্ষিণ-পশ্চিমে গণেশ, উত্তর-পশ্চিমে কার্তিক, উত্তর-পূর্বে শক্তি এবং দক্ষিণ-পূর্বে বিষ্ণু-নারায়ণ।
এছাড়াও দু’টি সভামণ্ডপে একসঙ্গে ৬ হাজারের বেশি মানুষ বসতে পারবেন। মন্দিরে মহাকালের কাহিনি ও মহিমা তুলে ধরা হবে। থাকবে রুদ্রাক্ষ কুণ্ড ও অমৃত কুণ্ড, যেখান থেকে ভক্তেরা অভিষেকের পবিত্র জল সঙ্গে করে নিয়ে যেতে পারবেন। মন্দির চত্বরে প্রসাদ বিতরণ কেন্দ্র, স্যুভেনিয়ার শপ, ক্যাফেটেরিয়া, ডালা কমপ্লেক্স এবং পুরোহিতদের থাকার ব্যবস্থাও থাকবে।
শিলান্যাস মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর দৃপ্ত বার্তা, “বাংলাকে এক নম্বরে করব বলেছি, করেই ছাড়ব।”










