উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়: সুন্দরবনে বাঘের মতো কুমিরের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন। এতদিন বছরে একবার, মূলত শীতকালে কুমির গণনার কাজ হলেও এবার থেকে দু’মাস অন্তর গণনার সিদ্ধান্ত নিল বনদপ্তর। বনকর্তাদের মতে, ঘন ম্যানগ্রোভ ও বিস্তীর্ণ খাঁড়ি জুড়ে ছড়িয়ে থাকা কুমিরের প্রকৃত সংখ্যা জানতে আরও ঘনঘন সমীক্ষা জরুরি।
সাধারণত শীতকালে খাঁড়ির পাড়ে রোদ পোহাতে ওঠা কুমিরদের মাথা গুনেই সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। বনকর্মীরা ছোট নৌকায় চেপে খাঁড়ির ভিতরে ঢুকে এই গণনার কাজ করেন। বাঘ গণনায় যেখানে ট্র্যাপ ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়, সেখানে কুমির গণনা সম্পূর্ণ নির্ভর করে সরাসরি পর্যবেক্ষণের উপর। ফলে কাজটি যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনই সময়সাপেক্ষ।
রাজ্য বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বছরে একবারের গণনায় কুমিরের প্রকৃত সংখ্যা স্পষ্টভাবে উঠে আসছিল না। তাই নিয়মিত ব্যবধানে তথ্য সংগ্রহের জন্য দু’মাস অন্তর সমীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ২০২৪-২৫ সালের গণনায় সুন্দরবনে আনুমানিক ২৪২টি কুমিরের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। সর্বশেষ সর্বভারতীয় বাঘ গণনায় সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ১০১। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাঘের পাশাপাশি কুমিরের সংখ্যাও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ জঙ্গলে যেমন বাঘের বাস, তেমনই নোনা জলের খাঁড়ি ও নদীতে কুমিরের আধিপত্য। বনদপ্তরের এক আধিকারিক জানান, চোখে দেখা সংখ্যার ভিত্তিতেই গণনা করা হয়। পাশাপাশি কুমিরের পায়ের ছাপ ও অন্যান্য চিহ্নও বিবেচনায় নেওয়া হয়। তবে যে সংখ্যা পাওয়া যায়, বাস্তবে তার চেয়ে বেশি কুমির থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
গতবারের সমীক্ষায় সবচেয়ে বেশি কুমির দেখা গিয়েছিল রায়দিঘি রেঞ্জে। সজনেখালি ও জাতীয় উদ্যান এলাকার দিকেও কুমিরের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। যদিও এবারের পর্যবেক্ষণে কিছু এলাকায় সংখ্যা তুলনামূলক কম বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রজননের সময় কুমিররা জলের বাইরে অপেক্ষাকৃত শুকনো জায়গা বেছে নেয়। সেখানে ডিম পাড়ে এবং বাচ্চা ফোটার পর মা কুমির অন্তত চার থেকে ছয় মাস পর্যন্ত তাদের পাহারা দেয়। পরে তারা জলে নেমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যায়। নিয়মিত গণনার মাধ্যমে এই প্রজননচক্র ও বাসস্থান সম্পর্কে আরও নির্ভুল তথ্য পাওয়া যাবে বলেই আশা বনদপ্তরের।










