উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়: সুন্দরবনে আবারও বাঘের আক্রমণে প্রাণ গেল এক মৎস্যজীবীর। মৃতের নাম শম্ভু সরদার, বয়স ৩৪ বছর। কুলতলি থানার কাঁটামারি বটতলা এলাকার বাসিন্দা শম্ভু মাছ–কাঁকড়া ধরতে গিয়েই সোমবার সকালে চামটা জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় বাঘের হামলার শিকার হন। ঘটনাস্থলে তাঁর সঙ্গে ছিলেন অমৃত সরদার ও বিজয় সরদার। নৌকায় বসে থাকার সময় হঠাৎই জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসা বাঘ শম্ভুকে পিছন দিক থেকে আক্রমণ করে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সঙ্গীরা বৈঠা নিয়ে প্রতিরোধ করায় বাঘ তাকে ফেলে জঙ্গলে পালিয়ে যায়। গুরুতর জখম অবস্থায় শম্ভুকে জয়নগর কুলতলি ব্লক গ্রামীন হাসপাতালে আনা হলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়।
মঙ্গলবার দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। শম্ভুর মৃত্যুতে গ্রামে নেমেছে শোকের ছায়া। বহু বছর আগে মারা গেছেন তাঁর স্ত্রী। বাড়িতে রয়েছেন বৃদ্ধ বাবা–মা ও দুই সন্তান। একমাত্র রোজগেরে মানুষটির মৃত্যুর পর ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বেগে পরিবার।
এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিপূরণের দাবিতে সরব হয়েছে মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর। সংগঠনের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সহ সম্পাদক মিঠুন মণ্ডল বলেন, সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে মৃত্যু ক্রমশ বেড়ে চললেও বন দফতর পরিবারের পাশে দাঁড়ায় না। তাঁর দাবি, এ বছর এখন পর্যন্ত ১৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু এখনও কেউ ক্ষতিপূরণের টাকা বা সরকারি চাকরি পাননি। তাই তাঁদের দাবি—ময়নাতদন্তের জন্য যাতায়াতের খরচ স্থানীয় থানাকে বহন করতে হবে, ১৫ দিনের মধ্যে পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, এবং পরিবারের একজনকে চাকরি দিতে হবে।
এদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বন আধিকারিক নিশা গোস্বামী জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের আওতায় হওয়ায় এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে পারবেন না। টাইগার রিজার্ভের ডেপুটি ফিল্ড ডিরেক্টর জাস্টিন জোন্স জানান, কোর এরিয়ার মধ্যে মৃত্যু হওয়ায় সরকারি সাহায্য মিলবে না। তবে প্রশ্ন উঠছে—২০২৩ সালের ৩ অক্টোবর কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্যের রায়ে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, কোর বা বাফার যাই হোক, বাঘের আক্রমণে মৃত বা আহত সকল মৎস্যজীবীকেই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সেই নজির থাকা সত্ত্বেও শম্ভুর পরিবার কি বঞ্চিত হবে?
শম্ভুর বি এল সি পাস থাকা সত্ত্বেও সাহায্য না মিললে আইনগত পথে এগোনোর কথাই ভাবছেন স্থানীয়রা। সুন্দরবনের মৎস্যজীবী মহলে প্রশ্ন—আইনের শরণ না নিলে কি ক্ষতিপূরণ মেলে না? এই প্রশ্ন তুলেই এপিডিআর সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানিয়েছে।










