Home / খবর / জেলায় জেলায় / তাইওয়ান গোলাপি পেয়ারা চাষে লাভের মুখ দেখছেন বারুইপুরের কৃষকেরা

তাইওয়ান গোলাপি পেয়ারা চাষে লাভের মুখ দেখছেন বারুইপুরের কৃষকেরা

উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়: বারুইপুর নামের সঙ্গে পেয়ারার সম্পর্ক বহুদিনের। সম্প্রতি বারুইপুরের পেয়ারা জিআই তকমা পাওয়ায় সেই খ্যাতি আরও বেড়েছে। পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফল পেয়ারা। তবে সব জাতের মধ্যে এখন সবচেয়ে লাভজনক হিসেবে উঠে এসেছে তাইওয়ান গোলাপি পেয়ারা।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে বারুইপুরে এই উন্নত জাতের পেয়ারা চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন কৃষকেরা। বছরে এই চাষ থেকে ৬ থেকে ৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানাচ্ছেন চাষিরা। বিঘাপ্রতি ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। ফলে ঐতিহ্যবাহী চাষের পাশাপাশি অনেক কৃষকই এখন তাইওয়ান গোলাপি পেয়ারার দিকে ঝুঁকছেন।

এই জাতের পেয়ারা এক বছরের মধ্যেই ফলন দিতে শুরু করে। কলমের মাধ্যমে চারা তৈরি করলে দু’-তিন বছরের মধ্যেই বাণিজ্যিক ফলন পাওয়া যায়, যেখানে বীজ থেকে গাছ তৈরি করলে ফল ধরতে চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগে। গুটি কলম, জোড় কলম ও চোখ কলম—বিভিন্ন পদ্ধতিতে উন্নত মানের চারা তৈরি করা হয়, যার মধ্যে গুটি কলম তুলনামূলক সহজ।

তাইওয়ান গোলাপি পেয়ারা উচ্চ তাপমাত্রা ও খরা সহ্য করতে পারে, তবে তুষারপাত সহ্য করতে পারে না। শীতকালে ১০-১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ভালো মানের ফল পাওয়া যায়। যদিও গাছের বৃদ্ধির জন্য বৃষ্টিপাত প্রয়োজন, ফল ধরার সময় অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে ফলনের গুণমান ব্যাহত হয়। ভারী কাদা মাটি ছাড়া প্রায় সব ধরনের মাটিতেই এই পেয়ারা চাষ করা যায়, বিশেষ করে বেলে দোআঁশ ও কাদা দোআঁশ মাটিতে ফলন ভালো হয়।

সাধারণত ফুল আসার ৪-৫ মাস পর ফল তোলার উপযুক্ত সময় হয়। বর্ষা (আগস্ট), শীত (নভেম্বর-ডিসেম্বর) ও বসন্ত (মার্চ-এপ্রিল)—এই তিন মৌসুমে ফল সংগ্রহ করা হয়। পাকা ফলের রঙ সবুজ থেকে ধীরে ধীরে হলদেটে হয়। পাখি ও বাদুড়ের উপদ্রব এড়াতে ফল পুরোপুরি পাকবার আগেই সংগ্রহ করতে হয়।

৩-৪ বছর বয়সী একটি গাছ থেকে গড়ে ২৫-৩০ কেজি ফল পাওয়া যায়। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ২০-২৫ টাকা দরে বিক্রি হলে গাছপিছু আয় দাঁড়ায় ৫০০-৬০০ টাকা। ফলে প্রতি বিঘায় ২৫-৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় সম্ভব। এই লাভজনক সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে বারুইপুরের বহু কৃষক এখন তাইওয়ান গোলাপি পেয়ারা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *