Home / খবর / জেলায় জেলায় / সুন্দরবনে মাছ চাষে ড্রোনের পরীক্ষামূলক ব্যবহার, নতুন সাফল্যের সম্ভাবনা

সুন্দরবনে মাছ চাষে ড্রোনের পরীক্ষামূলক ব্যবহার, নতুন সাফল্যের সম্ভাবনা

উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, সুন্দরবন: মাছ চাষ ও পরিবহণে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগল সুন্দরবনে। এবার সুন্দরবনে মাছ চাষে ড্রোনের পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু হলো। ভারতীয় কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (আইসিএআর)-এর অধীন কেন্দ্রীয় অন্তঃস্থলীয় মৎস্য গবেষণা সংস্থা (সিফরি)-র উদ্যোগে কুলতলির ‘সুন্দরবন কৃষ্টিমেলা’য় মঙ্গলবার পরীক্ষামূলকভাবে এই ড্রোন ব্যবহার করা হয়।

সংস্থার দাবি, এই ড্রোন প্রায় ৭০ কেজি পর্যন্ত ওজন বহন করতে পারে এবং একটানা প্রায় ৬ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার ক্ষমতা রয়েছে। সিফরি সূত্রে জানানো হয়েছে, সুন্দরবন এলাকাতেই এই প্রথম মাছ চাষের কাজে ড্রোনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হলো।

নদী-নালা ঘেরা সুন্দরবনে কৃষি ও মাছ চাষই মানুষের প্রধান জীবিকা। কিন্তু দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে বহু ক্ষেত্রেই মৎস্যজীবীরা তাঁদের উৎপাদিত মাছের ন্যায্য দাম পান না। নদী বা ভেড়ি থেকে মাছ ধরে দ্রুত বাজারে পৌঁছতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয় তাঁদের। এতে যেমন সময় নষ্ট হয়, তেমনই মাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। এই সমস্যার সমাধান হিসেবেই ড্রোন ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে কেন্দ্রীয় অন্তঃস্থলীয় মৎস্য গবেষণা সংস্থা।

ড্রোনের মাধ্যমে দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে মাছ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে দুর্গম এলাকায় পরিবহণ অনেকটাই সহজ হবে, সময় বাঁচবে এবং পরিবহণ খরচও কমবে। এই উদ্যোগ সফল হলে মৎস্যজীবী থেকে শুরু করে মাছ ব্যবসায়ীরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় অন্তঃস্থলীয় মৎস্য গবেষণা সংস্থা দীর্ঘদিন ধরেই সুন্দরবনে মহিলাদের মাছ চাষে যুক্ত করার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। ইতিমধ্যেই পাঁচ হাজারের বেশি মৎস্যজীবীকে স্বাবলম্বী করা হয়েছে। চলতি বছরে আরও এক হাজার ৬০০ জন মৎস্যজীবীর আর্থিক উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী দিনে সুন্দরবনের আরও ৪০০ আদিবাসী মহিলাকে স্বনির্ভর করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে সংস্থা।

মঙ্গলবার সুন্দরবনের প্রায় পাঁচ হাজার মহিলা মৎস্যজীবীকে নিয়ে একটি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেই সঙ্গে প্রায় ৪০০ জন মহিলা মৎস্যজীবীর হাতে মাছের পোনা ও মাছের খাবার তুলে দেওয়া হয়।

মেলা কমিটির চেয়ারম্যান জানান, সুন্দরবনের মানুষের আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারি প্রকল্পগুলি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই মেলার সূচনা হয়েছিল। তাঁর মতে, মহিলাদের স্বনির্ভর করতে কেন্দ্রীয় সংস্থার ধারাবাহিক উদ্যোগ ইতিমধ্যেই সাফল্য পেয়েছে। আর ড্রোনের মাধ্যমে মাছ পরিবহণ শুরু হলে সুন্দরবনে মাছ চাষে অভাবনীয় সাফল্য আসতে পারে।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *