অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: মাদক-দমনে রণংদেহী মেজাজে পুর প্রতিনিধি। শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের নিয়ে ভাঙলেন মাদকাসক্তদের ডেরা। রেলের জমিতে দু’দশক আগে গড়ে ওঠা অবৈধ পাকা নির্মাণ শাবল, হাতুড়ি দিয়ে গুঁড়িয়ে দিলেন তারা। ঘটনাস্থলে এল কোতয়ালি থানার পুলিশও।
শহরে মাদকের রমরমা কারবারের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছেন শহরবাসীর বড় অংশ। এই মাদক কারবারের অন্যতম কেন্দ্র হিসপবে নাম উঠে আসে টাউন স্টেশনের উল্টোদিকে রেলের জমিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এই অর্ধসমাপ্ত পাকা ভবনটির নাম।
বছর ২০-২২ আগে রেলের জমিতে অবৈধ ভাবে স্কুলের খেলার মাঠের পাশে, ইটের গাথনি দিয়ে ক্লাব ঘর তৈরি করে বহিরাগত কয়েক জন যুবক। যা আজ মাদক কারবারিদের সেফ জোনে পরিণত হয়েছিল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। রাতদিন মাদক কারবারি এবং মাদকাসক্তদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন এলাকার বাসিন্দারা। ওই পরিত্যক্ত গরের একশো মিটার দুরত্বে ছেলে ও মেয়েদের দুটি স্কুল রয়েছে। আসা যাওয়ার পথে এলাকার মহিলাদের পাশাপাশি স্কুলের ছাত্রীদের সঙ্গেও অভব্য আচরণ করা হতো বলে অভিযোগ। রত্না সেনগুপ্ত নামে এলাকার এক প্রবীনা জানান, স্থানীয় কাউন্সিলর কে এই নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েছেন তারা। এদিনও এক যুবতীকে উত্যক্ত ও কটুক্তি করার অভিযোগ ওঠে মাদকাসক্তদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা ফের কাউন্সিলার মনীন্দ্র বর্মণকে জানালে, তিনি পুলিশকে খবর দিয়ে ওই এলাকায় আসেন। স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে ওই অবৈধ ভবনটি গুঁড়িয়ে দেন।

মনীন্দ্র নাথ বর্মণ, কাউন্সিলার, জলপাইগুড়ি পুরসভা
মনীন্দ্রনাথ বর্মণ বলেন, “রেলকে কয়েকবার ওই ভবনটি ভেঙে ফেলার আবেদন করা হয়েছিল। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এদিকে পুলিশি অভিযান সত্ত্বেও মাদক কারবারি ও মাদকাসক্তদের দৌরাত্ম বন্ধ করা যাচ্ছিল না। এই ঘরটি তাদের ডেরা হয়ে উঠেছে। ঘরটিকে ভেঙে দেওয়া হল।” এরপর কাউন্সিলার-সহ নবীন-প্রবীণ স্থানীয় বাসিন্দারা ওই এলাকায় কড়া নজরদারি চালাবেন বলে জানান সবাই।









