কাল্পনিক ছবি
উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, কুলতলি : পুলিশের তৎপরতায় অপহরণের পর উদ্ধার হল এক দম্পতি। নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ওই দম্পতিকে অপহরণ করে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার রহড়া থানা এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে। সোমবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পুলিশ জেলার কুলতলি এলাকা থেকে অপহৃত দম্পতিকে উদ্ধার করে রহড়া থানার পুলিশ। অভিযানে কুলতলি থানার আইসি স্বপন বিশ্বাস-সহ পুলিশের বিশেষ দল উপস্থিত ছিল। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
রহড়ার বন্দিপুর লাল ইটখোলা এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকেন মহম্মদ রাজু ও তাঁর স্ত্রী গুড়িয়া বিবি। তাঁদের তিন মেয়ে রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গুড়িয়া বিবির বিরুদ্ধে আগে একাধিক চুরি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ ছিল এবং একাধিকবার তাঁকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গিয়েছে। অভিযোগ, রবিবার গভীর রাতে সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কয়েকজন দুষ্কৃতী নিজেদের রহড়া থানার পুলিশকর্মী পরিচয় দিয়ে তাঁদের বাড়িতে হানা দেয়। থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে দম্পতির হাত-পা বেঁধে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় তারা।
অভিযোগ, অপহরণের পর গুড়িয়া বিবির মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তাঁর মেয়েদের ফোন করে দুষ্কৃতীরা। সেখানে এক কোটি টাকা এবং সোনার গয়না মুক্তিপণ হিসেবে দাবি করা হয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সোমবার সকালে রহড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন মেয়েরা। এরপর মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে রহড়া থানার পুলিশ কুলতলি থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, অপহৃত দম্পতির মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে একটি ব্যাগে কাগজ ও কিছু গয়না রেখে অপহরণকারীদের দেওয়া নম্বরে ফোন করে কুলতলির একটি নির্দিষ্ট জায়গায় আসতে বলা হয়। পুলিশ সেখানে পৌঁছনোর আগেই বিষয়টি টের পেয়ে অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়। পরে কাছাকাছি এলাকায় একটি নৌকার মধ্যে থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দম্পতিকে উদ্ধার করা হয়।
নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের হয়েও কেন এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল এবং কারা এই অপহরণের সঙ্গে যুক্ত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সোমবার রাতেই কুলতলি থানার আইসির উপস্থিতিতে জয়নগর মজিলপুর থেকে ট্রেনে করে উদ্ধার হওয়া দম্পতিকে রহড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনায় যুক্ত দুষ্কৃতীদের খোঁজে কুলতলি ও রহড়া থানার পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে।










