উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়: জয়নগরের বিশ্বখ্যাত মোয়ার মূল উপাদান নলেন গুড়ের উৎপাদন ও শিউলিদের জীবিকা সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর থানার বহড়ুতে সরকারি উদ্যোগে শিউলিদের নিয়ে গঠন করা হল সমবায় ইউনিয়ন। একইসঙ্গে আয়োজন করা হয় বিশেষ সচেতনতা শিবিরের।
জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে ইতিমধ্যেই জয়নগরে মোয়া শিল্পকে বাঁচাতে মোয়া হাব চালু হয়েছে। এবার খেজুর গাছের রস সংগ্রহ ও নলেন গুড় তৈরির সঙ্গে যুক্ত শিউলিদের এক ছাতার তলায় আনতে উদ্যোগী হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সমবায় ইউনিয়ন। তাদের উদ্যোগে গঠিত হয়েছে ‘জয়নগর খেজুর গুড় অ্যান্ড পাটালি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড’। সোমবার বহড়ু দিঘির পাড়ে আবদুল কাহার খানের খেজুর বাগানে এই বিষয়ে একটি সচেতনতা শিবির অনুষ্ঠিত হয়।
শিবিরে উপস্থিত ছিলেন জয়নগর ১ নম্বর ব্লকের শিল্প আধিকারিক শিউলি পাখিরা, জেলা সমবায় ইউনিয়নের আধিকারিক মৃগাঙ্ক শেখর গায়েন, সমবায় সংস্থার পক্ষ থেকে জামির খান-সহ একাধিক কর্মকর্তা। আধিকারিকরা জানান, ভালো মানের নলেন গুড় উৎপাদন ও বাজারজাত করা, ভেজাল রুখে দেওয়া, শিউলিদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং খেজুর গাছ রোপণ ও পরিচর্যার মতো নানা কাজে সমবায় ইউনিয়ন এগিয়ে এসেছে।
এই সমবায়ের আওতায় এলে শিউলিরা নিজেদের স্বীকৃতি পাবেন, সরকারি ঋণ ও পেনশনের সুবিধা পেতে পারবেন। পাশাপাশি তাঁদের জন্য কিট সরবরাহ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে। এলাকায় ক্লাস্টার তৈরি করে নলেন গুড় প্যাকেটজাত করে রাজ্য ও দেশের বাইরে পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং শিউলিদের আয় বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সমবায় মারফত গুড় বিক্রি হলে উৎপাদকরা ন্যায্য দাম পাবেন এবং ভেজাল গুড়ের হাত থেকে ক্রেতারাও রক্ষা পাবেন বলে জানানো হয়েছে। সচেতনতা শিবিরে উপস্থিত শিউলিরা এই উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে এর সুফল মিলবে বলে আশাবাদী।










