রানিগঞ্জ: কলকাতায় একটি বেসরকারি মোমো সংস্থার আউটলেট ও গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একাধিক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে রানিগঞ্জের এনএসবি রোড এলাকায় অবস্থিত ওই সংস্থার আউটলেটের সামনে যৌথভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করল বামপন্থী শ্রমিক সংগঠন সিটু (CITU) ও ডিওয়াইএফআই।
বিক্ষোভকারীরা অগ্নিকাণ্ডে মৃত শ্রমিকদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, এবং তাঁদের আশ্রিতদের চাকরি দেওয়া এবং মৃত শ্রমিকদের পরিবারকে আজীবন বেতন প্রদানের দাবি জানান।
এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সিটু নেতা হেমন্ত প্রভাকর, ডিওয়াইএফআই নেতা গৌরব ঢল্ল সহ উভয় সংগঠনের একাধিক কর্মী। এই উপলক্ষে সিটু নেতা হেমন্ত প্রভাকর বলেন, কলকাতার ওই বেসরকারি মোমো সংস্থার গোডাউন ও আউটলেটে যে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, তাতে একাধিক শ্রমিকের প্রাণ গিয়েছে। কিন্তু এই ভয়াবহ ঘটনার পরেও রাজ্য প্রশাসন সম্পূর্ণ নীরব।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, যে জায়গায় এই কারখানাটি তৈরি করা হয়েছে সেখানে এই ধরনের কারখানা চালানোর মতো পর্যাপ্ত পরিকাঠামো ছিল না। তা সত্ত্বেও কার অনুমতিতে সেখানে কারখানা চলছিল, তা তদন্তের বিষয়।
হেমন্ত প্রভাকরের দাবি, এই অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ১৬ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৪০ জন শ্রমিক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি রাজ্য সরকারের কাছে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানান। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগের দাবিও তোলেন তিনি।
অন্যদিকে ডিওয়াইএফআই নেতা গৌরব ঢল্ল এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই দুর্ঘটনা স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দেয় যে, পশ্চিমবঙ্গে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসন কতটা উদাসীন। তাঁর অভিযোগ, কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না, কারণ শাসক দল হোক বা বিরোধী দল—সবাই এর সঙ্গে জড়িত।
গৌরব ঢল্ল আরও দাবি করেন, ওই কারখানার মালিক পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা এবং তাঁর সঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর যোগাযোগ রয়েছে বলেই এই বিষয়ে নীরবতা পালন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, শুরু থেকেই এই ঘটনার বিরুদ্ধে একমাত্র বামপন্থীরাই আন্দোলন করছে এবং সেই কারণেই বিষয়টি আজ সংবাদ শিরোনামে এসেছে। বিক্ষোভ চলাকালীন এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।










