Home / খবর / জেলায় জেলায় / প্রলোভনের ফাঁদে পড়ে ৩১ লক্ষ টাকা সাইবার প্রতারণার শিকার চিত্তরঞ্জনের মহিলা, তদন্তে পুলিশ

প্রলোভনের ফাঁদে পড়ে ৩১ লক্ষ টাকা সাইবার প্রতারণার শিকার চিত্তরঞ্জনের মহিলা, তদন্তে পুলিশ

চিত্তরঞ্জন : এ বার রেল শহর চিত্তরঞ্জনে সাইবার অপরাধীদের হানা। আইপিও ট্রেডিংয়ের নামে অনলাইন বিনিয়োগ বা লগ্নির নামে মুনাফা লোভে ৩১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা খোয়ালেন রেল শহরের স্ট্রিট নম্বর ৮৫-র বাসিন্দা অর্চনা কুমারী।

অভিযোগ, মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করায় সাইবার অপরাধীরা। প্রথমে অল্প টাকায় বড় মুনাফার টোপ দেওয়া হয়। তারপর ধাপে ধাপে হয় একাধিকবার বিনিয়োগ। আর তাতেই ঘটে বিপত্তি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে ১৮ নভেম্বরের মধ্যে প্রতারকদের দেওয়া বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোট ৩১.১০ লক্ষ টাকা লগ্নি করেন অর্চনাদেবী। সেই লগ্নির পর অল্প সময়ের মধ্যে অ্যাপে দেখাতে শুরু করে মুনাফার অঙ্ক। তাঁর বিনিয়োগ নাকি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ৭৯ লক্ষ ৭০ হাজার ৩৪২ টাকা ! অ্যাপে দেখানো সেই মুনাফার অঙ্কই বাড়িয়েছিল অর্চনাদেবীর বিশ্বাস।

কিন্তু, তারপরে ১৮ নভেম্বর ৫০ লক্ষ টাকা তোলার চেষ্টা করতেই সব হিসাব পাল্টে যায় । টাকা তো তোলাই যায়নি, উল্টে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে বাদ পড়েন তিনি। লগ ইন আইডি অকেজো হয়ে যায়। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের সব রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। তখনই তিনি বুঝতে পারেন যে, প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

জাতীয় সাইবার অপরাধ পোর্টালে অভিযোগ জানানোর পরে গত শুক্রবার রাতে তিনি আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের আসানসোল সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে সাইবার থানা ( মামলা নং ১৫/২৬) ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা বিএনএসের একাধিক ধারায় এফআইআর করা হয়। তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের সাইবার থানার এক আধিকারিক বলেন, ইনভেস্টমেন্ট বা লগ্নির কথা বলে মুনাফার লোভ দেখিয়ে প্রতারণা করা এখন সাইবার অপরাধের নতুন কৌশল। দ্রুত ও অস্বাভাবিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলছে সাইবার অপরাধীরা।

গত কয়েক বছরে আসানসোল সাইবার থানায় এমন শতাধিক অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। তার মধ্যে ১৬ কোটি ৮৩ লক্ষ টাকার প্রতারণার ঘটনাও রয়েছে। যা নিয়ে তোলপাড় হয়েছিলো গোটা আসানসোল শিল্পাঞ্চল। বারবার পুলিশের পক্ষ থেকে প্রচার চালানো হয় যে, অপরিচিত লিঙ্ক, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ বা অনুমোদিত নয়, এমন অ্যাপে বিনিয়োগের আগে যাচাই করবেন। তা না হলে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

বিশেষ করে, অল্প সময়ে টাকা লগ্নি করে বেশি লাভ বা মুনাফার প্রলোভনই হয়ে উঠছে সাইবার অপরাধীদের নতুন ফাঁদ। পুলিশ আধিকারিকরা বলছেন, সাধারণ মানুষদের আরও সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *