Home / খবর / জেলায় জেলায় / বুদবুদ থানায় ওসির দায়িত্ব পাওয়া পুলিস অফিসার মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতে ইডির হানা, কয়লা-বালি কেলেঙ্কারির গোপন চক্র এ বার প্রকাশ্যে

বুদবুদ থানায় ওসির দায়িত্ব পাওয়া পুলিস অফিসার মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতে ইডির হানা, কয়লা-বালি কেলেঙ্কারির গোপন চক্র এ বার প্রকাশ্যে

দুর্গাপুর: বুদবুদ থানায় সদ্য ওসি ‘ র দায়িত্ব পাওয়া পুলিসের সাব ইন্সপেক্টর মনোরঞ্জন মণ্ডল এর বাড়ী সহ একাধিক জায়গায়র ইডির তল্লাশি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য।

উল্লেখ্য, পশ্চিম বর্ধমান জেলার বিভিন্ন এলাকায় আজ সকাল থেকেই শুরু হয়েছে ইডির হানা।

জানা গেছে,কলকাতা, দুর্গাপুর, আসানসোল, দিল্লি পর্যন্ত ইডি এই অভিযান চালাচ্ছে।
এই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি ‘র একদল অফিসার অভিযান চালায় বুদবুদ থানার নবনিযুক্ত ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলের দুর্গাপুরে সিটি সেন্টারের বাড়িতে।

পুলিস সুত্রে জানা গেছে,
মনোরঞ্জন মণ্ডল এখনও বুদবুদ থানার ওসির চেয়ারে বসেননি, তার আগেই ইডির এই হাই-ভোল্টেজ অভিযানে জেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই ইডির দল মনোরঞ্জন মণ্ডলের দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারে অম্বুজার বাড়িতে ঢুকে পড়ে। নথিপত্র, আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড—সবকিছু খতিয়ে দেখতে শুরু করে। এদিকে বাড়ির বাইরে তখন কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন। যেন কোনও ফাঁক না থাকে।

কিন্তু কেনও এই অভিযান?
সূত্রের খবর, কয়লা ও বালি পাচারের আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরেই এই অভিযান। এটি আলাদা একটি তদন্ত, যা গত মাসে কলকাতায় আই-প্যাক অফিসে চালানো কয়লা কেলেঙ্কারির থেকে পৃথক।

অভিযোগ, এস আই মনোরঞ্জন মণ্ডলের অতীতে একটা কালো অধ্যায় রয়েছে। গত বছর, ২০২৪-এর নভেম্বরে, বারাবনি থানার ওসি থাকাকালীন তাঁকে সাসপেন্ড করা হয় দুর্নীতি ও অবৈধ কয়লা-বালি পাচার-এ সহায়তা করার অভিযোগে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছিলেন। যার পরদিনই এই সাসপেনশন। পরে তাঁকে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের স্পেশাল ব্রাঞ্চে যুক্ত করা হয়।

এদিকে এই কয়েকদিন আগেই বুদবুদ থানার দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই থানায় যোগ দেওয়ার আগেই ইডির এই অভিযান।
তাহলে কেনও তাকে পুনরায় ওসির দায়িত্ব দেওয়া হল?

এদিকে আরও জানা গেছে, কেবল মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতেই নয়, জেলার বিভিন্ন প্রান্তে কয়লা ও বালি ব্যবসায়ীদের ঘরেও ইডির তল্লাশি চলছে।

দুর্গাপুরের সেপকো এলাকায় বালি ব্যবসায়ী প্রবীর দত্ত (কে কে মিনারেলসের মালিক, যাঁর বাঁকুড়া, পশ্চিম ও পূর্ব বর্ধমানে বালির কারবার আছে, তার পানাগড়ে অফিস) এবং তার ভাই অমিত দত্তের বাড়িতেও অভিযান চলছে।

পানাগড়ে শেখ হাসিম মির্জা বেগ, আন্ডুলের ভক্তরনগরে শেখ কিরণ মণ্ডল, পান্ডবেশ্বরে কয়লা ব্যবসায়ী শেখ মাইজুল—সবার ঘরে ইডির হানা দিয়েছে।

প্রশ্ন উঠছে পুলিশের সঙ্গে মাফিয়াদের যোগসাজশ? আর্থিক লেনদেনের গোপন রহস্য?
ইডির পক্ষ থেকে এখনও কোনও বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *