সালানপুর : সরকার নির্ধারিত মূল্যে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের ধান ক্রয় প্রক্রিয়া শুরু হতেই ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে কালোবাজারি চক্র।
সালানপুর ব্লকের শিয়াকুলবেড়িয়া সিপিসি-তে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভর্তুকি সহায়তায় স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ চলছে। এরই মধ্যে অভিযোগ, এই সরকারি উদ্যোগকে কার্যত ভেঙে চুরমার করছে সংগঠিত কালোবাজারি ফড়েদের দৌরাত্ম্য।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বারাবনি ব্লকের একাংশ ফড়ে ঝাড়খণ্ড থেকে কম দামে ধান কিনে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষুদ্র চাষীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ভাড়া নিয়ে, সরকার নির্ধারিত মূল্যে শিয়াকুলবেড়িয়া সিপিসি-তে ধান বিক্রি করছে। ফলে প্রকৃত কৃষকরা যেমন বঞ্চিত হচ্ছেন, তেমনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারও লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব ক্ষতির মুখে পড়ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, সিপিসি-র সিসিটিভি ক্যামেরায় প্রতিদিন একই ব্যক্তির উপস্থিতি ধরা পড়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি নিয়মিতভাবে ক্ষুদ্র চাষীদের অ্যাকাউন্ট সংগ্রহ করে রেজিস্ট্রেশন করানোর জন্য হাজির হচ্ছেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—এই ব্যক্তিদের প্রতিদিন এখানে কী কাজ? কোন ক্ষমতাবলে তারা সরকারি ধান ক্রয় কেন্দ্রে অবাধে বিচরণ করছে? বিশেষ অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই চক্র ঝাড়খন্ড থেকে ধান এনে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করছে। অথচ বারাবনি ব্লকের জন্য আলাদা সিপিসি নির্ধারিত থাকা সত্ত্বেও, বারাবনির কালোবাজারি ফড়েরা কেন শিয়াকুলবেড়িয়া সিপিসিতেই ধান দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে—এই প্রশ্নও এখন জোরালোভাবে উঠছে।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়, ধান সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা সরকার নিযুক্ত অফিসারদের চোখের সামনেই এই বেআইনি কারবার চলছে। ব্লকের খাদ্য সরবরাহ দপ্তরের অফিসারদের নিয়মিত মনিটরিং করার কথা থাকলেও বাস্তবে তাঁদের উপস্থিতি প্রায় নেই বললেই চলে। প্রশাসনিক উদাসীনতাই কি এই কালোবাজারিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে ? এই প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। সরকারি টাকার এই প্রকাশ্য অপব্যবহার কবে বন্ধ হবে? প্রকৃত কৃষকরা কবে ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবেন? প্রশাসন কবে কঠোর পদক্ষেপ নেবে—এখন সেটাই দেখার।










