আসানসোল : বিজেপি নেতা কৃষ্ণ প্রসাদ বৃহস্পতিবার ইংরেজি নতুন বছরের একেবারে প্রথম দিন দুপুরে আসানসোলের ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের কাল্লা মোড় এলাকায় নিজের বাসভবনের সংলগ্ন এলাকায় একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেন।
সেই সম্মেলনে তিনি আসানসোল উত্তর বিধানসভার বিধায়ক তথা রাজ্যের আইন ও শ্রম মন্ত্রী মলয় ঘটক ও রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন।
তিনি বলেন, মন্ত্রী তথা বিধায়ক হিসেবে আসানসোল উত্তরের জনগণকে দেওয়া একটিও প্রতিশ্রুতি গত ৫ বছরে পূরণ হয়নি। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আমি আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে বেড়াচ্ছি। তীব্র ঠান্ডায় জনগণকে সম্ভাব্য সকল সহায়তা দেওয়ার জন্য কাজ করছি। এইসব পরিস্থিতি দেখে আমার চোখে জল আসে।
তিনি আরও বলেন, এই ওয়ার্ডগুলি ঘুরে দেখার পর আমি বুঝতে পেরেছি যে, এখানে কোনও উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়নি। মানুষের ঘর, পোশাক, কর্মসংস্থান এমনকি মৌলিক সুযোগ-সুবিধারও অভাব রয়েছে। তবে, রাজ্যের মন্ত্রী তথা আসানসোল উত্তরের বিধায়ক এইসব নিয়ে একেবারেই উদ্বিগ্ন নন।
আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের অনেক ওয়ার্ডে মানুষ অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। যার মধ্যে মুসলিমরাও রয়েছেন। যাদের তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থক করার দাবি করে। তিনি বলেন, বিজেপি সবসময়ই বলে আসছে যে, জাতীয়তাবাদী ভারতীয় মুসলিমদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। তবে যারা বাইরে থেকে এসে দেশের মধ্যে অশান্তি তৈরি করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে এই বিজেপি নেতা মলয় ঘটককে তাঁর পদ থেকে পদত্যাগ করার দাবি জানান। কারণ মলয় ঘটক একজন বিধায়ক এবং মন্ত্রী হিসেবে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। তিনি আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের ১৩, ২০ এবং ২১ সহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের পদত্যাগের দাবিও করেন। তার দাবি, যারা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেননি। এদিন বিজেপি নেতা মলয় ঘটককে প্রশ্ন করেন যে, যখন তিনি ভোটের প্রচারে ছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন যে, আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে থাকা র্যাকেট কোলম্যান কারখানাটি আবার চালু করা হবে। তাহলে কেনও এটি এখনও খোলা হয়নি?
তিনি বলেন, এখানকার বিধায়ক এবং মন্ত্রী বারবার তার নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন। এখন জনগণ তাকে ক্ষমা করবে না। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর আশা প্রসাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, ওই কাউন্সিলর কাজ করার জন্য জনগণের কাছ থেকে ৫০০/১০০০ টাকা নেন। তবেই তিনি কাউন্সিলর হিসেবে তার দায়িত্ব পালন করেন।
এরপর কৃষ্ণ প্রসাদ ইসিএলের সিএমডি সতীশ ঝাঁয়ের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করে বলেন, ইসিএল বা ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড কিছুদিন আগে পর্যন্ত লাভজনক সংস্থা ছিল। কিন্তু হঠাৎ কি হল যে, কর্মীরা এখন সময়মতো বেতন পাচ্ছেন না?
কৃষ্ণ প্রসাদ বলেন যে, এর একমাত্র কারণ হল ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেডের মধ্যে ব্যাপক কেলেঙ্কারি চলছে। তিনি ” সকালের ডাক” পত্রিকায় প্রকাশিত একাধিক খবরের সূত্র ধরে পান্ডবেশ্বর, খোট্টাডিহি, জেকে নগর, নিমচা, জামুরিয়া, সালানপুর সহ বিভিন্ন এলাকার কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, এখানে কয়লার ব্যাপক কালোবাজারি চলছে। তিনি বলেন, খনি থেকে উত্তোলিত কয়লায় পাথর মেশানো হয়। যার ফলে কয়লার মান খারাপ হচ্ছে। ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেডের আগে যেসব বড় কোম্পানি কয়লা কিনতো, তারা তা কেনা বন্ধ করে দিয়েছে। যে কারণে কোম্পানি এখন লোকসানে চলছে। এই কারণে কোম্পানিটি তার কর্মীদের সময়মতো বেতন দিতে পারছে না।
তিনি বলেন, ইসিলের বিভিন্ন কয়লা খনি থেকে অবৈধভাবে কয়লাও উত্তোলন করছে। এইসব কয়লা পরিবহনের জন্য প্রতি ট্রাকে গড়ে ১০,০০০ টাকা করে নেওয়া হয়। কৃষ্ণ প্রসাদ অভিযোগ করেন, যে ভেজাল কয়লা, ডিও এবং কয়লার ট্রাক থেকে তোলাবাজির মাধ্যমে প্রতি মাসে কয়েকশ কোটি টাকা আদায় হচ্ছে। যার একটি বড় অংশ রাজনৈতিক নেতাদের কাছে পৌঁছায়।
তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভের জন্য এই অর্থ ব্যবহার করতে চায়। কিন্তু, আমরা তা হতে দেব না। এই ব্যাপারে তিনি প্রধানমন্ত্রী এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাছে অভিযোগ করবেন বলে এদিন জানিয়েছেন। আমি জনসাধারণের সাথে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করব। কৃষ্ণ প্রসাদ বলেন, আমি জানি যে, আমার জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কিন্তু আমি দমে যাওয়ার পাত্র নই। আমি তৃণমূলের অপকর্ম বন্ধ করবই। পাপ্পু সিং, লোকেশ সিং, বীর বাহাদুর সিং সহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তি এই অবৈধ কয়লা ব্যবসায় জড়িত। যাদের সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের সাথে যোগসূত্র রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই মহকুমার এক তৃণমূল বিধায়কের ছেলে জামুরিয়ায় অবৈধ কয়লা ব্যবসা তদারকি করেন। তিনি বলেন, বার্নপুরের একজন এই অবৈধ ব্যবসায়ীদের খুব ঘনিষ্ঠ। ২০২৩ সালে, বার্নপুরের বাসিন্দা কুন্দন সিংকে ব্যবহার করে আমাকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু আমি সমস্ত ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়েছিলাম।










